খোলাবাজারে বোতলজাত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করা হচ্ছে © টিডিসি
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটকে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি অসাধু চক্র। ফিলিং স্টেশন বা পাম্পগুলোয় সরবরাহ নেই বলে সাধারণ মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও ঠিক বাইরেই খোলাবাজারে বোতলজাত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি দামে। প্রতি লিটার পেট্রোল খোলাবাজারে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে যারা মোটরসাইকেলে কর্মস্থলে ফিরছেন, তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। মতলব উত্তর ও আশপাশের উপজেলার পাম্পগুলো কয়েক দিন ধরে তেলের তীব্র সংকটের কথা বলে সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। নিরুপায় হয়ে মোটরসাইকেলচালকরা রাস্তার ধারের ছোট দোকানগুলো থেকে দ্বিগুণের বেশি দামে নিম্নমানের তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল আরোহীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পাম্পের কর্মীরা বলছেন তেল নেই, অথচ পাম্পের পাশের বাজারের দোকানেই বোতলে করে ২৫০-৩০০ টাকা লিটার দরে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে। এটি একটি প্রকাশ্য সিন্ডিকেট। পাম্প থেকে তেল সরিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।’
অনেক ভুক্তভোগী খোলাবাজারের তেলের মান নিয়ে ও ইঞ্জিনের ক্ষতি হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাম্পমালিকরা বরাবরের মতোই ডিপো থেকে তেল সরবরাহ কম থাকার অজুহাত দিচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নীতিনির্ধারকরা বলছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার আশায় কৃত্রিম এ সংকট তৈরি করেছেন।
এদিকে সাধারণ মানুষ ও পরিবহনচালকদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে যেন অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অবৈধ মজুতদার ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হয়। পাম্প থেকে তেল সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে সচেতন মহল।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘মতলব উত্তরে একটিমাত্র পাম্প আছে, যেখানে গতকাল পর্যন্ত ডিজেল ১০ হাজার লিটার ও অকটেন ২ হাজার লিটার ছিল। খোলাবাজারে আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি।’