প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
সম্পূর্ণ পানি না ঝরিয়ে ভেজা মাংস ফ্রিজে রাখলে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়। সবচেয়ে বড় ভুল হয় বড় বড় প্যাকেটে মাংস রাখা। মাংস রাখতে হবে ছোট ছোট প্যাকেটে, যেন একবার ফ্রিজ থেকে বের করলে পুরোটা রান্না করা যায়। বারবার বরফ গলানো এবং পুনরায় ফ্রিজিং করা মাংসের পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয় এবং পেটের পীড়াসহ ফুড পয়জনিংয়ের কারণ হতে পারে।
এটা কোনো ধারণা নয়, বরং এমনটাই বলছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের সাথে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়া ফ্রিজ পরিচালনা করা ক’জন গৃহিনী বিষয়টি জানেন? তাই এক কথায় বলা যায়, প্রযুক্তির ব্যবহারের হার বাড়লেও বাড়েনি সচেতনা।
কোরবানির মাংস সঠিক নিয়মে সংরক্ষণের জন্য মাংস ধুয়ে পানি ঝরানো, ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করা কিংবা ফ্রিজের সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখার মতো জরুরি নিয়মগুলো এখনও আমাদের অনেকেরই অজানা। যার ফলে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষই এখনো পুরোনো পদ্ধতি অনুসরণ করেন।
একজন গৃহিণী জানান, কোরবানির মাংস পাওয়ার পর তাড়াহুড়ো করে ধুয়েই ফ্রিজে রেখে দেন তিনি। পানি ঝরানোর অত সময় নেই। আর বড় বড় পলিথিনে একবারে অনেক মাংস রেখে দিয়ে পরে রান্নার সময় বের করে ছাড়ান।
অনেক পরিবারে আবার মাংস না ধুয়েই রক্তসহ ফ্রিজে রেখে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। খামারি ও সাধারণ গ্রামবাসীদের একাংশের ধারণা, ফ্রিজে রাখলে সব জীবাণু এমনিতেই মরে যায়, তাই বাড়তি নিয়মের প্রয়োজন নেই।
সঠিক নিয়মে মাংস সংরক্ষণ না করলে পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসক ডা. জয়ন্ত কুমার বলেন, মাংস ফ্রিজে রাখার আগে অবশ্যই ভালো করে রক্ত ধুয়ে, সম্পূর্ণ পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। ভেজা মাংস রাখলে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়। সবচেয়ে বড় ভুল হয় বড় বড় প্যাকেটে মাংস রাখা। মাংস রাখতে হবে ছোট ছোট প্যাকেটে, যেন একবার ফ্রিজ থেকে বের করলে পুরোটা রান্না করা যায়। বারবার বরফ গলানো এবং পুনরায় ফ্রিজিং করা মাংসের পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয় এবং পেটের পীড়াসহ ফুড পয়জনিংয়ের কারণ হতে পারে।
তিনি আরও জানান, কোরবানির ঈদের সময় ফ্রিজে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মাংস গাদাগাদি করে রাখা হয়। এতে ফ্রিজের ভেতরের বাতাস চলাচল ব্যাহত হয় এবং মাংসের ভেতরের অংশ কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রায় বা তার নিচে পৌঁছায় না। ফলে বাইরে থেকে ভালো মনে হলেও ভেতরে মাংস পচতে শুরু করে।
তার মতে, স্থানীয় গণমাধ্যম, স্বাস্থ্যকর্মী এবং মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে যদি কোরবানির আগে মাংস সংরক্ষণের সঠিক নিয়মগুলো প্রচার করা যায়, তবেই ফ্রিজের আসল সুফল পাবে গ্রামীণ মানুষ।