হেরে গেলে মানুষ কেন পাগলামি করে? জানাচ্ছে মনোবিজ্ঞান

২০ জুলাই ২০২৬, ০৫:১০ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © এআই সম্পাদিত ছবি

জীবনে জয় যেমন স্বাভাবিক, তেমনি পরাজয়ও অনিবার্য। কিন্তু জয়ের মুহূর্তে মানুষ যেমন আনন্দ-উল্লাসে ভাসে, পরাজয়ের পর অনেকেই এমন আচরণ করেন, যা সাধারণভাবে পাগলামি বলেই মনে হয়। খেলাধুলা, কর্মজীবন কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক সব ক্ষেত্রেই এমন দৃশ্য দেখা যায়। প্রশ্ন হলো, হেরে গেলে মানুষ কেন এতটা আবেগপ্রবণ বা অস্বাভাবিক আচরণ করে?

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, পরাজয় মানুষের মস্তিষ্কে গভীর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। কোনো লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ বা পুরস্কার-সম্পর্কিত অংশ প্রত্যাশিতভাবে সক্রিয় হতে পারে না। এর ফলে হতাশা, ক্ষোভ ও মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয়, যা অনেক সময় আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

প্রত্যাশা যত বেশি, হতাশাও তত গভীর
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ যখন নিজের বা কোনো প্রিয় ব্যক্তি কিংবা দলের প্রতি অতিরিক্ত প্রত্যাশা তৈরি করে, তখন ফল প্রত্যাশামতো না হলে মানসিক ধাক্কা আরও তীব্র হয়। প্রত্যাশা ও বাস্তবতার এই ব্যবধান থেকেই অনেক সময় অতিরিক্ত আবেগ বা চরম হতাশার জন্ম হয়।

অহংবোধে আঘাত
পরাজয় অনেকের আত্মসম্মান বা অহংবোধেও আঘাত হানে। সমাজের কাছে ছোট হয়ে যাওয়ার ভয় কিংবা নিজের কাছে নিজের মূল্য কমে যাওয়ার অনুভূতি মানুষকে আক্রমণাত্মক বা অস্বাভাবিক আচরণের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

আবেগ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে মস্তিষ্ক
তীব্র রাগ, দুঃখ ও অপমান একসঙ্গে কাজ করলে মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণক্ষমতা সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন মানুষ অনেক সময় বিচার-বিবেচনা না করেই আবেগের বশে আচরণ করে বসে।

আরও পড়ুন : ইনস্টাগ্রামকে আসক্তি তৈরির প্ল্যাটফর্ম বানানোর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে মেটা

সামাজিক চাপও বড় কারণ
পরিবারের প্রত্যাশা, বন্ধু-স্বজনের চাপ কিংবা সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা ও বিদ্রূপের আশঙ্কাও অনেকের জন্য পরাজয় মেনে নেওয়া কঠিন করে তোলে। এই মানসিক চাপ থেকে কেউ কেউ অস্বাভাবিক বা চরম প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন।

খেলাধুলা থেকে ব্যক্তিজীবন সবখানেই একই চিত্র
খেলার মাঠে প্রিয় দল বা খেলোয়াড়ের পরাজয়ের পর সমর্থকদের ভাঙচুর, মারামারি বা আত্মক্ষতির ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। একইভাবে চাকরি হারানো, ব্যবসায় লোকসান কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কে ব্যর্থতার পরও অনেক মানুষ গভীর হতাশায় ভোগেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আত্মঘাতী বা ধ্বংসাত্মক আচরণেও রূপ নিতে পারে।

কীভাবে সামলাবেন পরাজয়?
মনোবিজ্ঞানীদের পরামর্শ, পরাজয়কে জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে গ্রহণ করা জরুরি। ব্যর্থতা মানেই পথের শেষ নয়; বরং এটি শেখার এবং নিজেকে আরও ভালোভাবে গড়ে তোলার সুযোগ। সাময়িক আবেগে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ব্যর্থতার কারণ বিশ্লেষণ করলে ভবিষ্যতে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। জয়-পরাজয়কে ইতিবাচক মানসিকতায় গ্রহণ করতে পারলে ব্যক্তি জীবন আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও সুস্থ থাকে।

ট্রেনে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর টিটিদের, প্রতিবাদে রেললাইন অ…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় মিয়ানমারের তিন সেনা ও পুলিশ সদস্য…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
উজানের ঢলে ভেঙেছে সড়ক, ভেসেছে বিদ্যালয়
  • ২১ জুলাই ২০২৬
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: তদন্তে ৩০টির বেশি সুপারিশ, বা…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
আন্দোলনের সময় গুপ্তদের অনেক খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি: তারেক রহ…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করলেই সাধারণ মানুষও চিনে তারা কারা: …
  • ২১ জুলাই ২০২৬