চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মশালায় অতিথির বক্তব্য দেন প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ © সংগৃহীত
চাঁদপুরে মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং-বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ভূমি জোনিং প্রকল্পের সহযোগিতায় বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ ভূমি সেবার আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল রূপান্তর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল জোনিং একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং অনিয়ম ও দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ডধারীরা এই প্রকল্প থেকে সরাসরি উপকৃত হবেন। জমির শ্রেণি, ব্যবহার ও অবস্থান সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য পাওয়ার ফলে কৃষি পরিকল্পনা হবে আরও কার্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক। তিনি উল্লেখ করেন, নাগরিকদের জন্য ভূমি সেবা সহজলভ্য করতে ইতোমধ্যে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে, যেখানে অনলাইনেই খতিয়ান, নামজারি, ভূমি করসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করা যাবে।
সিনিয়র সচিব বলেন, ‘আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলছি, যেখানে ভূমি সংক্রান্ত সেবা পেতে নাগরিকদের আর হয়রানির শিকার হতে হবে না। প্রতিটি সেবার অগ্রগতি মনিটরিংয়ের জন্য কল সেন্টার এবং অভিযোগ ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক সফটওয়্যার চালু রয়েছে।’ তিনি সবাইকে ভূমি বিষয়ক মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে নিজ নিজ আইডি খুলে সেবা গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল জরিপ ও জোনিং সম্পন্ন হলে দেশের প্রতিটি জমির সঠিক মানচিত্র ও ব্যবহার নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এতে করে অবৈধ দখল, কৃষিজমি নষ্ট করা এবং পরিকল্পনাহীন স্থাপনা নির্মাণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে।
এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৃষিজমির টপ সয়েল ব্যবহার করে ইটভাটা স্থাপন কিংবা অপরিকল্পিতভাবে মাটি কেটে স্থাপনা নির্মাণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ভবিষ্যতে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এসব বিষয়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশের মধ্যে শুধুমাত্র সিলেট ও চাঁদপুর জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে এবং চাঁদপুরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়েছে। পরবর্তীতে সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটি সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
কর্মশালায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব (টিম লিডার) এ আর এম খালেকুজ্জামান, অতিরিক্ত সচিব (পরীক্ষণ ও মূল্যায়নবিষয়ক স্পেশালিস্ট) মো. আফজালুর রহমান, এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রকল্প পরিচালক, ভূমি জোনিং) মো. জহিরুল ইসলাম।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর সার্কেলের এসপি খায়রুল কবির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরশাদ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নাজমুন নাহার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) একরামুল হক ছিদ্দিক, চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ল্যাফটেন্যান্ট শোয়াইব, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জোতির্ময় ভৌমিক, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুভাস চন্দ্র রায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবু তাহের, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, সাবেক সভাপতি রহিম বাদশা, জেলা সাহিত্য একাডেমীর মহাপরিচালক কাদের পলাশসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন চাঁদপুর কালেক্টরেট মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মোশারফ হোসাইন এবং গীতা পাঠ করেন সদর উপজেলা পরিষদের স্টাফ বিশ্বজিৎ চন্দ্র দাস।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী স্টেকহোল্ডাররা ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন এবং কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ প্রদান করেন।