পাচারকালে উদ্ধার করা মুখপোড়া হনুমান ও ১২টি কচ্ছপ © টিডিসি
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা থেকে পাচারকালে বিলুপ্ত প্রজাতির বন্য প্রাণী একটি মুখপোড়া হনুমান ও ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করেছেন বনকর্মীরা। এ সময় পাচার কাজে জড়িত মো. হাদিসুর রহমান (৪২) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যার বন্যপ্রাণী ব্যবস্হাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের চুনতি রেঞ্জ অফিসার আনিসুজ্জামান শেখের নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি দল কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ভাঙ্গারমূখ এলাকার একটি বাড়িতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব বন্য প্রাণী উদ্ধার এবং পাচারকারীকে আটক করে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ।
আটক পাচারকারী হাদিসুর রহমান রাজধানী ঢাকা জেলার মিরপুর-১১, রোড নং-৩ কাঁচাবাজার-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সুলতান মিয়ার ছেলে।
ডিএফও আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কতিপয় সংঘবদ্ধচক্র চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার বনাঞ্চল থেকে বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী সংগ্রহ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছে। এমন প্রেক্ষাপটে সোমবার বিকেলে জানতে পারি, কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ভাঙ্গারমুখ এলাকার একটি বাড়িতে বেশ কিছু বন্য প্রাণী পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছে। বিষয়টি চুনতি রেঞ্জ অফিসারকে জানিয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনার জন্য নির্দেশ দিই। পরে বনকর্মীরা ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বন্য প্রাণীগুলো উদ্ধার এবং পাচার কাজে জড়িত একজনকে আটক করে।’
জানতে চাইলে চুনতী বন্য প্রাণী ও অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, অভিযানের সময় আটক হাদিসুর রহমানের বিরুদ্ধে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে মামলা রুজু করে মঙ্গলবার চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সৌপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার বন্য প্রাণীগুলো আদালতে আলামত হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিজ্ঞ আদালত মামলার শুনানি শেষে বন্যপ্রাণী গুলো যেখানে অবমুক্ত করার নির্দেশনা দেবেন, সেখানে অবমুক্ত করা হবে।
বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষন চট্টগ্রামের বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াসিন নেওয়াজ বলেন, বাংলাদেশে বন্য প্রাণী শিকার, হত্যা, আটক, ক্রয়বিক্রয় ও পাচার দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব অপরাধের ধরন ও সংশ্লিষ্ট প্রাণীর গুরুত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১২ বছর কারাদণ্ড এবং ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।