গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন

ইরানের ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামের পেছনে ছুটছে ইসরায়েল

১৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৯ PM
পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজ

পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজ © সংগৃহীত

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু এবং প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা বোমা হামলার পরও ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনো আশঙ্কা দেখছে না মার্কিন গোয়েন্দারা।  অন্যদিকে তেলের দাম বাড়ায় রাজনৈতিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কথা ভাবছেন। এ অবস্থায় ইসরায়েলের একাধিক নিরাপত্তা সূত্র জানাচ্ছে, ইরানে হামলার সময় শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে তাদের কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ছিল না। সূত্রগুলোর মতে, বিমান হামলার পর মানুষ (ইরানি) রাস্তায় নেমে বিদ্রোহ শুরু করবে এমন আশা ছিল। কিন্তু অভিযানের পেছনে শক্ত গোয়েন্দা তথ্য ছিল না।

ইসরায়েলের বর্তমান ও সাবেক গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, অভিযানের সফলতা এখন নির্ভর করছে ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যতের ওপর। গত বছরের জুনে সংঘাতের পর এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম একটি পাহাড়ের নিচে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

সূত্রদের মতে, এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম থেকে ১০টির বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির মতো উপাদান পাওয়া যেতে পারে। এটি যদি ইরানের ভেতরেই থাকে, তাহলে দেশটি দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোতে পারবে।

ইরান বিষয়ে অভিজ্ঞ ইসরায়েলের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামই যুদ্ধের ফলাফল বোঝার অন্যতম স্পষ্ট উপাদান। অভিযান সফল হয়েছে কি না- তা অনেকটা এর ওপর নির্ভর করবে। এই কর্মকর্তার ভাষ্য, ইসরায়েলের সামনে এখন দুটি পথ- সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানের বাইরে নেওয়া অথবা এমন সরকারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যারা ইউরেনিয়ামগুলোর নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করবে।

ইরানের কট্টরপন্থিরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতাই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকার একমাত্র নিশ্চয়তা। এই ধারণা আরো জোরালো হবে যদি বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে যায়। খবরে বলা হচ্ছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদে জব্দ করতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এক সেনা অভিযানের কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের আগে হওয়া আলোচনাতেও প্রস্তাব উঠেছিল- ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

ইসরায়েলের এক সাবেক কর্মকর্তা বলেন, চলমান যুদ্ধ এক ধরনের উচ্চঝুঁকির খেলা। সফল হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। কিন্তু যদি শাসনব্যবস্থা টিকে থাকে এবং তারা ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম ধরে রাখে, তাহলে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যাবে।

ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা গবেষণা বিভাগের সাবেক উপপ্রধান জোয়াব রোসেনবার্গ বিষয়টি আরো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ইউরেনিয়াম যদি ইরানের হাতে থাকে, তাহলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইসরায়েলের জয় ‘পিরিক ভিক্টরি’ হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি এমন এক ধরনের জয় যা শেষ পর্যন্ত ক্ষতির কারণ হয়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জোয়াব রোসেনবার্গ বলেন, ইরানের হাতে ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম থেকে গেলে সেটি হবে ইসরায়েলের পরাজয়। 

এদিকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ড ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকির মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি বিপুল পরিমাণে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পদ ব্যয় করে এমন একটি কর্মসূচি গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অস্ত্র তৈরির চূড়ান্ত ধাপে যাওয়ার নির্দেশ দেননি।

আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির মনোভাব এখনো স্পষ্ট নয়। ইসরায়েলের সাবেক এক উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘আলি খামেনির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রায় সবকিছুই আমরা জানতাম। কিন্তু মোজতবার ক্ষেত্রে আমরা যথেষ্ট জ্ঞান রাখি কি না তা নিয়ে সংশয় আছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি (মোজতবা) দ্রুতই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোবেন।’

ইন-হাউস কোচিং করতে হবে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের, সম্মানী থাকবে…
  • ২৪ জুন ২০২৬
সেশনজটসহ নানা ভোগান্তির প্রতিবাদে রাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগে তা…
  • ২৪ জুন ২০২৬
টঙ্গীতে আগুনে পুড়ে ছাই ২৫ বসতঘর
  • ২৪ জুন ২০২৬
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্ল্যানারি সেশনে যোগ দিলেন প্রধানম…
  • ২৪ জুন ২০২৬
বাড়ির পাশে ঝোপে পড়ে ছিল একাধিক মামলার আসামির গলাকাটা মরদেহ
  • ২৪ জুন ২০২৬
এসএসসি-এইচএসসির দুই বছরেই ৪০ লাখ শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয়: শিক্ষা…
  • ২৪ জুন ২০২৬