ইলন মাস্ক © সংগৃহীত
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক নিজেকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে দাবি করে জানিয়েছেন, তিনি তার জীবদ্দশায় ৫০০ বিলিয়ন (৫০ হাজার কোটি) ডলারেরও বেশি কর প্রদান করবেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।
নিজেকে ‘ইতিহাসের সর্বোচ্চ করদাতা’ হিসেবে রসিকতা করে মাস্ক জানান, তিনি ইতিমধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর পরিশোধ করেছেন। এক্সে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কৌতুক করে বলেন, ‘এককভাবে আমি ইতিহাসের সর্বোচ্চ করদাতা। আমি ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ট্যাক্স দিয়েছি। আমি ভেবেছিলাম এর জন্য আইআরএস (যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ) হয়তো আমাকে ছোটখাটো একটা ট্রফি বা ওই জাতীয় কিছু পাঠাবে।’
নিজের কর প্রদানের স্বীকৃতি নিয়ে হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করে মাস্ক আরও বলেন, ‘বাচ্চারা কারাতে প্রতিযোগিতায় জিতলে যেমন সস্তা ট্রফি পায়, তেমন একটা হলেও হতো। কিন্তু আমি কিছুই পাইনি।’ তবে এই কৌতুকের রেশ ধরেই ওই ভিডিওর নিচের মন্তব্যের ঘরে তিনি নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘মৃত্যু পর্যন্ত সম্ভবত আমার মোট কর প্রদানের পরিমাণ ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।’
ইলন মাস্কের সম্পদের এই বিশাল উল্লম্ফন ঘটেছে মূলত তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাম্প্রতিক প্রসারের কারণে। চলতি মাসের শুরুর দিকে মাস্কের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেস-এক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান এক্স-এআই একীভূত হয়, যার ফলে তার প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এই একীভূতকরণের প্রভাবে মাত্র এক দিনেই মাস্কের নিট সম্পদ ৮৪ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে নতুন এই কোম্পানিতে মাস্কের ৪৩ শতাংশ মালিকানা রয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫৪২ বিলিয়ন ডলার। এর বাইরেও বর্তমানে টেসলায় মাস্কের ১২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে যার মূল্য ১৭৮ বিলিয়ন ডলার এবং তার কাছে ১২৪ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের স্টক অপশন রয়েছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলন মাস্কের সম্পদ আরও বহুগুণ বাড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। টেসলার শেয়ারহোল্ডাররা তার জন্য একটি বিশেষ ‘মার্স শট’ পে-প্যাকেজ অনুমোদন করেছেন। শর্ত অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে টেসলা যদি তার প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারে, তবে মাস্ক অতিরিক্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলার সমমূল্যের শেয়ার পেতে পারেন। আর এমনটি ঘটলে তিনি হবেন বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ বা লাখ কোটিপতি। সম্পদের এই অভাবনীয় পাহাড় গড়ার পথেই তিনি ইতিহাসের সর্বোচ্চ করদাতা হওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করতে চান।