ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের চাগোস দ্বীপপুঞ্জ চুক্তির কড়া সমালোচনা ট্রাম্পের

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:২০ AM
 ট্রাম্প ও স্টারমার

ট্রাম্প ও স্টারমার © টিডিসি সম্পাদিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের চাগোস দ্বীপপুঞ্জ চুক্তির কড়া সমালোচনা করেছেন। মরিশাসের কাছে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি ‘বড় ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়ার একদিন পর বুধবার ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, স্টারমার এই চুক্তির মাধ্যমে ‘বড় ধরনের ভুল করছেন’। তার দাবি, এর ফলে যুক্তরাজ্য ‘এমন সব অচেনা সত্তার দাবির মুখে এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে’, যা ‘আমাদের মতে সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন’।

চুক্তি অনুযায়ী, ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপ, যেখানে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেটি ৯৯ বছরের জন্য লিজে রাখবে যুক্তরাজ্য। প্রয়োজনে লিজের মেয়াদ বাড়ানো যাবে। এর জন্য বছরে প্রায় ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হবে।

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ ১৮১৪ সালে ব্রিটিশ ভূখণ্ডের অংশ হয়। ১৯৬০-এর দশকে মরিশাস স্বাধীন হওয়ার আগে যুক্তরাজ্য দ্বীপপুঞ্জটিকে আলাদা করে নেয় এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়ে ডিয়েগো গার্সিয়ায় সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে।

২০১৯ সালে মরিশাস দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্ব নিয়ে আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত যুক্তরাজ্যকে দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানায়। পরবর্তীতে জাতিসংঘও ছয় মাসের মধ্যে দ্বীপগুলো ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, এই চুক্তি ‘যুক্তরাজ্য ও আমাদের প্রধান মিত্রদের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্রিটিশ জনগণকে নিরাপদ রাখতে সহায়ক’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে চুক্তিতে পৌঁছেছি, সেটিই এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটির দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার একমাত্র উপায়।’

ট্রাম্প এর আগেও জানুয়ারিতে এ চুক্তির সমালোচনা করেছিলেন। তবে ফেব্রুয়ারির শুরুতে স্টারমারের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি বলেছিলেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ‘তার পক্ষে সম্ভব সর্বোত্তম চুক্তিটিই করেছেন’।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় না আসে, তাহলে সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে ডিয়েগো গার্সিয়া ও ফেয়ারফোর্ডের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে হতে পারে। তার ভাষায়, ‘সম্ভাব্য হামলা নির্মূল করতে যুক্তরাষ্ট্রের ডিয়েগো গার্সিয়া ও ফেয়ারফোর্ডের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করা প্রয়োজন হতে পারে’। তিনি আরও দাবি করেন, এ হামলা ‘সম্ভাব্যভাবে যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য মিত্র দেশের ওপর হতে পারে’।

লিজ চুক্তিকে ‘অনিশ্চিত’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্যকে ‘ওকিজমসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ় থাকতে হবে’।

সংবাদসূত্রঃ আল জাজিরা

উল্লেখ্য, চাগোসের বাসিন্দাদের অনেককে মরিশাস ও সেশেলসে পাঠানো হয়েছিল। তাদের অনেকেই পরে যুক্তরাজ্যে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা নিজ দ্বীপে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।

আজ থেকে নতুন সূচিতে চলবে সরকারি অফিস
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শাবিপ্রবি শিবিরের সভাপতি তুহিন, সেক্রেটারি মুজাহিদ
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইন্টার মিলানকে হারিয়ে চমক দিল বোডো/গ্লিম্ট, অ্যাটলেটিকোর ড…
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সিরিয়া থেকে ১ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট…
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের চাগোস দ্বীপপুঞ্জ চুক্তির ক…
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬