আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও ট্রাম্প © সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের ব্যাপারে মার্কিনিদের ধারণার চেয়ে পরিস্থিতি আরও গুরুতর। যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এবং তা দ্রুত শুরু হতে পারে।
এবারের হামলা হবে ব্যাপক ও দীর্ঘমেয়াদি। কয়েক সপ্তাহ ধরে তা চলতে পারে। গত মাসে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র যে সীমিত হামলা চালিয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রে তেমনটি হবে না—বরং আরও বিস্তৃত আকারে অভিযান পরিচালিত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
একটি সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানায়, সম্ভাব্য হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলও যোগ দিতে পারে। দুই দেশ যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালাতে পারে, যা দেশটির সরকারের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
গত বছরের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ হয়েছিল। এতে যুক্তরাষ্ট্রও যুক্ত ছিল। সে সময় ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার বিষয়ে বিবেচনা করেছিলেন। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তনে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। এরপর একদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনা, অন্যদিকে সামরিক শক্তি বাড়ানোর কৌশল নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করায় এখন প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত কত বড় হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। তবে তা এখন সম্ভব নয় বলেই মনে হচ্ছে। ফলে হামলার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
গত মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জেরেড ক্রুসনারের মধ্যে তিন ঘণ্টার বৈঠক হয়। সেখানে মার্কিন পক্ষের বেশিরভাগ দাবি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান আরাগচি।
ইসরায়েল ইরানে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে। তাদের লক্ষ্য আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সরকারের পতন ঘটানো এবং ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা।
দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই হামলা শুরু হতে পারে—এমন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, অনেকেই হামলা না চালানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে পরিস্থিতি এমন যে যে কোনো সময় বিমান হামলা শুরু হতে পারে। তার ভাষায়, হামলার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ।