আসামের 'মিঞাঁ মুসলমানদের' বাংলাদেশে গিয়ে ভোট দিতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা

৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৫ AM
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা © বিবিসি বাংলা

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছেন, 'মিঞাঁ মুসলমানদের' উচিত আসামে নয়, বাংলাদেশে গিয়ে ভোট দেওয়া।

তিনি আরও বলেছেন, 'যে কোনও ভাবে যেন মিঞাঁ মুসলমানদের উত্যক্ত করা হয়, যাতে তারা আসাম ছেড়ে চলে যান।' আসামের মুখ্যমন্ত্রী এ-ও বলেছেন, তারা যে মিঞাঁ মুসলমানদের বিরুদ্ধে, তা নিয়ে তাদের কোনও লুকোছাপা নেই।

ভারতে মিঞাঁ শব্দটি আসামের বাংলাভাষী মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলা একটি 'কটু কথা', যার অর্থ ধরে নেওয়া হয় যে তারা বাংলাদেশি। গত কয়েকদিন ধরেই হিমন্ত বিশ্বশর্মা মিঞাঁ মুসলমানদের উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন উক্তি করছেন।

আসামে কয়েক মাসের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচন হবে এবং এখন সেখানে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের কাজ চলছে। এই সংশোধন অবশ্য পশ্চিমবঙ্গ সহ আরও অনেক রাজ্যে যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন চলছে, তা থেকে পৃথক। আসামের এই তালিকা সংশোধন একরকম ভোটের আগে রুটিন প্রক্রিয়া।

মি. বিশ্বশর্মা বলেছেন, ওই ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়ে বিজেপি কর্মীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা সন্দেহজনক বিদেশীদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে গুচ্ছ গুচ্ছ 'সাত নম্বর ফর্ম' জমা দেয়। ইতিমধ্যেই বিজেপি কর্মীরা পাঁচ লক্ষ ফর্ম জমা করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ভোটার তালিকায় কারও নাম নিয়ে যে কেউই 'সাত নম্বর ফর্ম' জমা দিয়ে আপত্তি তুলতে পারেন।

আপত্তি তোলার জন্য গুচ্ছ গুচ্ছ 'সাত নম্বর ফর্ম' জমা দেওয়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে বৃহস্পতিবার চিঠি পাঠিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন আসামের কংগ্রেস নেতৃত্ব।

মিঞাঁদের 'উত্যক্ত' করতে চাইছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা?

আসামের মুখ্যমন্ত্রী আগেও মিঞাঁ মুসলমানদের নিয়ে নানা কথা বললেও গত মঙ্গলবার থেকে তিনি বারবার এই প্রসঙ্গ তুলছেন।

সেদিন তিনসুকিয়া জেলার ডিগবয়তে একটি অনুষ্ঠানের পরে সাংবাদিকদের সামনে বলেন, "আমাদের কাছে ভোট চুরি মানে আমরা কিছু মিঞাঁ ভোট চুরি করতে চাইছি। আদর্শ ব্যবস্থা সেটাই হত যদি তাদের আসামে ভোট দেওয়ার অনুমতি না দিয়ে বাংলাদেশে দেওয়া হত।

'আমরা নিশ্চিত করছি যাতে তারা আসামে ভোট না দিতে পারে,' মন্তব্য হিমন্ত বিশ্বশর্মার।

সাংবাদিকরা তার সামনে উল্লেখ করেছিলেন যে, হাজার হাজার বাংলাভাষী মুসলমান ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধন চলাকালীন নোটিস পাচ্ছেন।

জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'এটা (বিশেষ সংশোধন) তো প্রাথমিক। যখন এসআইআর (নিবিড় সংশোধন) হবে আসামে, চার থেকে পাঁচ লাখ মিঞাঁ নাম আসাম থেকে কাটা যাবে। কংগ্রেস যত পারে আমাকে গালাগালি করুক। আমার কাজ হল যাতে মিঞাঁ মানুষদের ভোগান্তি হয়।'

এর আগেও তিনি বলেছিলেন, তার সরকার আইনের আওতার মধ্যে থেকেই মিঞাঁদের উত্যক্ত করবে।

সেদিনই অন্য একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'নিয়ম অনুযায়ী মিঞাঁদের এখানে ভোট দেওয়ার কথা নয়, তাদের উচিত বাংলাদেশে ভোট দেওয়া। তারা যাতে আসামে ভোট দিতে না পারে, সে ব্যাপারে আমরা কিছু ব্যবস্থা নিয়েছি।'

সাধারণ মানুষকেও তিনি বলেছিলেন, যাতে তারাও মিঞাঁদের বিরক্ত করতে থাকেন। তার কথায়, 'মিঞাঁদের উত্যক্ত করা দরকার। যদি রিকশার ভাড়া পাঁচ টাকা হয়, তাহলে চার টাকা দিন যাতে তাদের বিরক্ত করা হয়। এভাবেই তারা এখান থেকে চলে যাবে।'

ভোটার তালিকায় থাকা মিঞাঁ মুসলমানদের নাম নিয়ে আপত্তি তুলে তার দলের কর্মীরা যে পাঁচ লাখেরও বেশি 'সাত নম্বর ফর্ম' জমা দিয়েছেন, সেটাও একাধিকবার বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আসামের সবাই জানে যে বাংলাদেশি মিঞাঁ অনুপ্রবেশকারীরা রাজ্যে এসেছে। যদি ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধনের সময়ে তারা কেউ নোটিস না পায় তাহলে তার অর্থ কী দাঁড়ায়? যে আসামে কোনো বিদেশি নাগরিক নেই।

'এজন্যই আমাদের কর্মীরা পাঁচ লাখেরও বেশি ফর্ম জমা দিয়ে আপত্তি তুলেছে। নাহলে তো সকলেই আইনি বৈধতা পেয়ে যাবে,' মন্তব্য হিমন্ত বিশ্বশর্মার।

তার মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা শুরু হওয়ায় বৃহস্পতিবার তিনি বলেছেন, 'মিঞাঁ' শব্দটি তো তার আবিষ্কার নয়, বাংলাদেশি মুসলমানরা নিজেরাই মিঞাঁ পরিচয় দেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে তিনি এদিন বলেন, 'আমি তো মুসলমান শব্দটা ব্যবহার করছি না, তাতে আমাদের ভূমিপুত্র মুসলমান বাসিন্দাদের আঘাত লাগতে পারে।'

ঘটনাচক্রে ঢাকায় আসামের যে মুসলমান নারী সাকিনা বেগমকে খুঁজে পেয়েছিল বিবিসি বাংলা, তিনি কিন্তু বাংলাভাষী মুসলমান নন, আসামেরই আদি বাসিন্দা তার পরিবার। তাকেও মি. বিশ্বশর্মার সরকার সীমান্ত পার করিয়ে দিয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছে কংগ্রেস

ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধনের সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বিজেপি কর্মীরা যেভাবে লাখ লাখ আপত্তি জানানোর ফর্ম জমা দিচ্ছেন, তা নিয়ে বিরোধী দলগুলি সমালোচনা করে বলছে, সম্প্রদায়কে টার্গেট করে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।

আসামের বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের অপব্যবহার নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নজর দেওয়ার অনুরোধ করে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে একটি চিঠি লিখেছেন।

মি. শইকিয়া লিখেছেন, 'গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময়ে বার বার নির্দিষ্টভাবে আসামে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছেন, ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধন চলাকালীন শুধুমাত্র (বাংলাভাষী মুসলমান) মিঞাঁ সম্প্রদায়কে ইচ্ছাকৃত-ভাবে নোটিস পাঠানো হচ্ছে, যাতে 'তাদের চাপে রাখা যায়', 'তাদের ভোগান্তি হয়', এবং এটা দেখানো যায় যে আসামে একটা 'প্রতিরোধ' হচ্ছে।'

দেবব্রত শইকিয়া তার চিঠিতে আরও লিখেছেন, 'মুখ্যমন্ত্রী সর্বসমক্ষে যেভাবে শুধুই 'মিঞাঁদের' নোটিস দেওয়া হচ্ছে, যার উদ্দেশ্য হল 'তাদের যাতে ভোগান্তি হয়' বা 'চার থেকে পাঁচ লক্ষ মিঞাঁ ভোট বাদ যায়' এবং সরকার 'মিঞাঁ ভোট চুরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে', এধরণের বক্তব্যগুলো সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে ভোটারদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অভিপ্রায়ের নজিরবিহীন স্বীকারোক্তি।'

অন্যদিকে গৌহাটি হাইকোর্টে বুধবার একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে, যাতে আসামের ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনে ব্যাপক হারে আপত্তি তোলার ঘটনায় আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

কংগ্রেস, রাইজর দল, আসাম জাতীয় পরিষদ, সিপিআইএম যৌথভাবে এ নিয়ে আসামের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপিও জমা দিয়েছে।

রাইজর দলের সভাপতি ও বিধায়ক অখিল গগৈ বলছেন যে, আসামের মানুষ তো মিঞাঁদের চাপের রাখার জন্য হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে মুখ্যমন্ত্রী বানায় নি।

স্বপ্নপূরণে ঈদে বাড়ি ফিরছেন না বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক …
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
‘আমার কথা-কাজে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
জনবল নিয়োগ দেবে ব্যাংক এশিয়া, আবেদন শেষ ২৬ মার্চ
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
পাঙাসের ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে এগোচ্ছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
লারিজানি হত্যার প্রতিশোধে ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে ইরান
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ঈদ পরবর্তী চারদিন বন্ধ থাকবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence