ইরানে বিক্ষোভ © সংগৃহীত
ইরানের রাজধানী তেহরান জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পঞ্চম দিনে আরও সহিংস রূপ নিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা 'ফার্স নিউজ' এবং মানবাধিকার সংস্থা 'হেনগাও'-এর তথ্যমতে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের লোরদেগান শহরে সংঘর্ষ চলাকালে দুই জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া পশ্চিমাঞ্চলীয় আজনা শহরে তিন জন এবং কুহদাশতে আরও এক জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা অগ্নিসংযোগ করেছেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে তাঁদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে।
মূলত খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রার চরম দরপতনের ফলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এই বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটায়। তেহরানের ব্যবসায়ীদের হাত ধরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন সাধারণ মানুষ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে এখন শুধু অর্থনৈতিক মুক্তি নয়, বরং দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের স্লোগানও শোনা যাচ্ছে। কেউ কেউ সর্বোচ্চ নেতার শাসনের অবসান চাচ্ছেন, আবার কেউ রাজতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের দাবি তুলছেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, কুহদাশতে বিক্ষোভকারীদের হামলায় রেভল্যুশনারি গার্ডসের এক সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ১৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তবে বিক্ষোভকারীরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, নিহত ব্যক্তি একজন সাধারণ বিক্ষোভকারী ছিলেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত বুধবার দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে স্কুল-কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। যদিও সরকার বলছে এটি শীতের কারণে 'জ্বালানি সাশ্রয়' করতে করা হয়েছে, তবে সাধারণ মানুষ একে বিক্ষোভ দমানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাঁর সরকার জনগণের 'যৌক্তিক দাবি' শুনতে প্রস্তুত। তবে সুর কঠোর করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি-আজাদ। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দেশে অস্থিরতা তৈরির যেকোনো অপচেষ্টাকে 'চূড়ান্ত জবাব' দেওয়া হবে।
২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানে এটিই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি রয়েছে।