বারে অগ্নিকাণ্ড © সংগৃহীত
সুইজারল্যান্ডের পর্যটন শহর ক্রাঁস-মোনতানায় নববর্ষের আগের রাতে এক পার্টির সময় ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করছে সুইস পুলিশ। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর রয়টার্সের
বিবৃতিতে বলা হয়, আগুনটি পরিকল্পিতভাবে লাগানো হয়েছিল, এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের তীব্রতায় অনেক ভুক্তভোগীর শরীর মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ায় তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিবিসির খবরে বলা হয়, লে কঁস্তেলাসিওঁ বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এক প্রত্যক্ষদর্শী আগুনে জ্বলতে থাকা ভবনে ঢুকে ভেতরে আটকে পড়া মানুষদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। এর পর চারদিকে ঘন ধোঁয়া দেখতে পাই। আমি ভেবেছিলাম আমার ছোট ভাই ভেতরে আছে। তাই আমি ছুটে যাই এবং মানুষদের বের করে আনতে জানালা ভাঙার চেষ্টা করি।’
ভেতরে ঢুকে যে দৃশ্য তিনি দেখেছেন, তা ছিল ভয়াবহ। তাঁর ভাষায়, ‘মানুষগুলো মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুড়ে যাচ্ছিল, কারও গায়ে আর কাপড় ছিল না। দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর।’
প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, পরে দমকলকর্মী ও চিকিৎসকরা পরিস্থিতি সামাল দেন। তবে তার আগ পর্যন্ত তিনি নিজের মতো করে সহায়তা করার চেষ্টা করেন। আহতদের পানি ও কাপড় দেন এবং দগ্ধ এক ব্যক্তিকে নিজের জ্যাকেট খুলে দেন। তিনি বলেন, ‘এটা খুবই মর্মান্তিক। কারণ আমি সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই এই বারে যেতাম। ঠিক যেদিন আমি যাইনি, সেদিনই বারটি পুড়ে গেল।’