মিয়ানমারে জনগণকে ভোট দিতে বাধ্য করতে ‘নৃশংসতা’ চালাচ্ছে জান্তা: জাতিসংঘ

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৮ AM
জাতিসংঘ

জাতিসংঘ © সংগৃহীত

মিয়ানমারের জান্তা আসন্ন সেনা-নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনে জনগণকে ভোট দিতে বাধ্য করতে সহিংসতা চালাচ্ছে এবং ভয়ভীতিও প্রদর্শন করছে। অন্যদিকে মানুষকে ভোট থেকে বিরত রাখতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানায় জাতিসংঘ।

জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে বলেন, মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষকে ভোট দিতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে জনগণের প্রতি নৃশংস সহিংসতা বন্ধের পাশাপাশি ভিন্নমত প্রকাশের কারণে মানুষকে গ্রেফতার থামাতে হবে।

মিয়ানমারের জান্তা আগামী রবিবার থেকে ভোট আয়োজন করতে যাচ্ছে। তারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন হিসেবে প্রচার করছে। দেশটির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের ও গৃহযুদ্ধ শুরুর পাঁচ বছর পর নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে।

অপরদিকে সাবেক বেসামরিক নেতা নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি এখনো কারাগারে রয়েছেন এবং তার জনপ্রিয় দলটিও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ধাপে ধাপে এক মাসব্যাপী এই ভোটকে সামরিক শাসনের নতুন রূপ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক গত মাসে এএফপি’কে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমারে নির্বাচন আয়োজন ‘অকল্পনীয়’। মঙ্গলবার তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে সাধারণ মানুষ সামরিক কর্তৃপক্ষ এবং সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠী— উভয়ের হুমকির মুখে পড়ছে।

তার বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘নির্বাচন সুরক্ষা আইন’-এর অধীনে মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রয়োগের কারণে বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অনেককে ‘অত্যন্ত কঠোর সাজা’ দেওয়া হয়েছে। ইয়াঙ্গুন অঞ্চলের হ্লাইংহায়া টাউনশিপের তিন যুবককে নির্বাচনবিরোধী পোস্টার টাঙানোর কারণে ৪২ থেকে ৪৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় জানিয়েছে, তারা ম্যান্ডালে অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাস্তুচ্যুত মানুষের কাছ থেকে রিপোর্ট পেয়েছে। তাদের সতর্ক করা হয়েছে, ভোট দিতে না গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে বা তাদের বাড়িঘর দখল করা হবে।

ভলকার তুর্ক জোর দিয়ে বলেন, বাস্তুচ্যুত মানুষকে অনিরাপদ অবস্থায় ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভোট দিতে বাধ্য করা মানবাধিকার লঙ্ঘন।

তিনি আরও বলেন, মানুষ সামরিক বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছ থেকেও ‘মারাত্মক হুমকির’ মুখে পড়ছে। এর মধ্যে রয়েছেন ৯ জন নারী শিক্ষক, যাদের গত মাসে কিয়াইকতো থেকে অপহরণ করা হয়। তখন তারা ব্যালট সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, পরে তাদের অপরাধীদের পক্ষ থেকে সতর্ক বার্তাসহ মুক্তি দেওয়া হয়।

তুর্ক বলেন, এই নির্বাচন স্পষ্টতই সহিংসতা ও দমন-পীড়নের পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যেখানে জনগণের স্বাধীন মত প্রকাশ, সংগঠন বা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার প্রয়োগের কোনো পরিবেশ নেই।

বিএসপিইউএ ওয়েবিনার: গবেষণাপত্র প্রত্যাহার ও গবেষণা সততা রক্…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ তুলে আত্মহত্যার চেষ্টা শিক্ষি…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
উপকূলের কাছে ফের লঘুচাপ, চার বন্দরে সতর্ক সংকেত
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
জুলাই চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে ঢাবি শিক্ষকদের ত…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক, সুস্থ থাকার ৮ সহজ উপায়
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
চাঁদা তুলতে বাধা দেওয়া ছাত্রদল নেতাদের চাপাতি-চাইনিজ কুড়াল …
  • ১২ আগস্ট ২০২৬