দুর্যোগপ্রবণ এলাকা
বন্যাকবলিত এলাকায় রয়েছে সবচেয়ে বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান © টিডিসি সম্পাদিত
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে জন্ম আফিয়া খাতুনের (ছদ্মনাম)। একদিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে দেখেন স্কুলে যাবার পুরো পথ ডুবে গেছে পানিতে। কখনো শুকনো কখনো ডুবোপথ মাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত পড়াশোনা করতে হয়েছে। কিন্তু নিয়মিত বিদ্যালয়ে পৌঁছানো ছিল অসম্ভব। গণিত আর ইংরেজিতে নিয়মিত ক্লাস না করতে পেরে ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়েছেন পড়াশোনায়। এভাবে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করে পড়াশোনা সপ্তম শ্রেণির চৌকাঠ পেরোতে পারেনি এই শিক্ষার্থী।
দুর্গম ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকার শিক্ষার্থীদের এই বাস্তবতা দেশের শিক্ষা খাতের একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের ২৫ জেলার ৭২টি উপজেলাকে দুর্গম এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এর মধ্যে সুনামগঞ্জেরই সাতটি উপজেলা রয়েছে। অন্যদিকে, সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৫ প্রতিবেদনে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও খরার মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ৫ হাজার ৬৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য উঠে এসেছে। দুর্যোগের কারণে ব্যাহত হচ্ছে শ্রেণি কার্যক্রম, তৈরি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে গণিত ও ইংরেজিতে।
শিখনঘাটতির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন, আসবাবপত্র, যাতায়াতের রাস্তা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা। তবুও দুর্যোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার প্রস্তুতিতেও রয়েছে ঘাটতি। ফলে আফিয়ার মতো অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই দুর্যোগ মানে শুধু ঘরবাড়ি হারানো কিংবা পানিবন্দী জীবন নয়। অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তাদের শিক্ষাজীবনও। প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার পাশাপাশি তাদের লড়তে হচ্ছে শিক্ষাজীবন বাঁচানোর জন্যও।
ব্যানবেইসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় মোট ৫ হাজার ৬৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবস্থিত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে বন্যাকবলিত এলাকায়। এ ধরনের এলাকার মধ্যে বন্যাকবলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১ হাজার ৫৫৭টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৪৭টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায়। এ ছাড়া জলোচ্ছ্বাসপ্রবণ এলাকায় ৪৮৭টি, ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় ৪৬৯টি, খরা ও বরেন্দ্র অঞ্চলে ৩৪৪টি এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় ৩১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। লবণাক্ততাপ্রবণ এলাকায় রয়েছে ১১৯টি প্রতিষ্ঠান। ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় রয়েছে ১৯০টি এবং পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় ৩৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
অন্যদিকে, জোয়ার-ভাটাপ্রবণ এলাকায় ২১৮টি এবং অন্যান্য দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ৯৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবস্থিত। এসব পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, বন্যা ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ১৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা মোট প্রতিষ্ঠানের ২ দশমিক ৫২ শতাংশ।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অবকাঠামো ও শিক্ষা উপকরণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে দুর্যোগের পর অনেক প্রতিষ্ঠান এসব ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পারছে না।
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা গেছে আসবাবপত্র পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে। দুর্যোগের পর ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আসবাবপত্রের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ভবন বা অবকাঠামোর ক্ষতি পুনরুদ্ধার করতে পারেনি ১৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া দরজা-জানালার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি ১৮ দশমিক ৯১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান।
একইভাবে, সংযোগকারী রাস্তার ক্ষতি পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছে ১৬ দশমিক ০২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। স্যানিটেশন সুবিধার ক্ষেত্রে এ হার ১১ দশমিক ০৮ শতাংশ। পানি সরবরাহব্যবস্থার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি ৮ দশমিক ১০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। এমনকি ছাদের ক্ষতি পুনরুদ্ধার করতে পারেনি ৫ দশমিক ১৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান।
গণিত ও ইংরেজিতে শিখন ক্ষতির ঝুঁকি বেশি
দুর্যোগের কারণে শ্রেণি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক শিখন ক্ষতি হচ্ছে। সমীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান, ধর্ম ও অন্যান্য বিষয়ের শিখন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার পরিস্থিতি তিনটি শ্রেণিতে তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো, বাড়িতে বসে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারা, ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হওয়া এবং অপূরণীয় বা স্থায়ী শিখন ক্ষতি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গণিতে ৪০ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং ইংরেজিতে ৩৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর শিখন ক্ষতিকে অপূরণীয় বা স্থায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ হার বিজ্ঞানে ৩৬ দশমিক ১২ শতাংশ এবং হিসাববিজ্ঞানে ৩২ দশমিক ১২ শতাংশ, বাংলায় ২১ দশমিক ৪৮ শতাংশ, সমাজবিজ্ঞানে ১৯ দশমিক ২০ শতাংশ, অন্যান্য বিষয়ে ২১ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং ধর্ম বিষয়ে ১৫ দশমিক ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী শিখন ক্ষতির মুখে পড়ছে।
এদিকে, শিখন ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার হারও গণিত, ইংরেজি, বিজ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞানে বেশি। গণিতে ৪৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ইংরেজিতে ৪৭ দশমিক ৮০ শতাংশ, বিজ্ঞানে ৪৫ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং হিসাববিজ্ঞানে ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী এ ধরনের সমস্যায় পড়েছে। অন্যদিকে, বাংলায় এ হার ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ, সমাজবিজ্ঞানে ১৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, অন্যান্য বিষয়ে ২২ দশমিক ১২ শতাংশ এবং ধর্ম বিষয়ে ১৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
শিখন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়ভেদে বড় পার্থক্য রয়েছে। সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, বাড়িতে বসে ধর্ম বিষয়ে ৭০ দশমিক ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী শিখন ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পেরেছে। সমাজবিজ্ঞানে এ হার ৬১ দশমিক ৩৮ শতাংশ, অন্যান্য বিষয়ে ৫৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং বাংলায় ৫৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এছাড়াও হিসাববিজ্ঞানে ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, বিজ্ঞানে ১৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ, ইংরেজিতে ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং গণিতে মাত্র ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বাড়িতে বসে শিখন ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পেরেছে।
দুর্যোগের প্রভাব মোকাবিলায় উদ্যোগ সীমিত
দুর্যোগের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা, সমস্যা চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা।
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, সব প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। দুর্যোগের প্রভাব মোকাবিলার বিষয়টি পিটিএ (প্যারেন্ট-টিচার অ্যাসোসিয়েশন) ও এসএমসি (স্কুল ম্যানেজিং কমিটি) সভায় আলোচনা করেছে ২৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন আলোচনায় সমস্যা উপস্থাপন করেছে ২৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। সমস্যা চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি করেছে ২১ দশমিক ০৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করেছে ১৬ দশমিক ৫১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে, ৬ দশমিক ২২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেয়নি বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্যোগের ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যৎ ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরির জন্য ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। নির্ধারিত কাঠামো ও চেকলিস্ট অনুসরণ করে মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি এবং পাঠানোর হার মাত্র ১৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।এরমধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফোনে কর্তৃপক্ষকে দুর্যোগ-সংক্রান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন ২৯ দশমিক ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে। অন্যদিকে, ২৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করেছে এবং সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তালিকাভুক্ত করেছে। এ ছাড়া ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান শুধু প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের কাছে এ ধরনের প্রতিবেদন কীভাবে তৈরি করতে হয় সেটি জানে না। এমনকি ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কখনো চিন্তাই করেনি।
নমনীয় শিক্ষা ক্যালেন্ডার প্রয়োজন
দুর্যোগের কারণে শিক্ষার্থীদের শিখন ক্ষতি কমাতে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জন্য ফ্ল্যাক্সিবল বা নমনীয় শিক্ষা ক্যালেন্ডার চালুর সুপারিশ করা হয়েছিল ২০০৭ সালেই। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ ধরনের ব্যবস্থা সুনির্দিষ্ট নীতিগত কাঠামোয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে দুর্যোগে পাঠদান ব্যাহত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হয় শিক্ষার্থীদের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের সাবেক পরিচালক ও সহপ্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, দুর্যোগপ্রবণ এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্যাক্সিবল বা নমনীয় শিক্ষা ক্যালেন্ডারের প্রয়োজনীয়তা অনেক আগেই চিহ্নিত করা হয়েছিল। ২০০৭ সালে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের (পিইডিপি-২) মূল্যায়নের সময় আমি এ বিষয়ে সুপারিশ করেছিলাম। পরবর্তী সময়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও এ ধরনের ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পৃথক প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
শিক্ষা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত এই অধ্যাপক, দুর্যোগপ্রবণ এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নমনীয় শিক্ষা ক্যালেন্ডার ও পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা খুব প্রয়োজন। কারণ বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা অন্য কোনো দুর্যোগের কারণে দীর্ঘ সময় পাঠদান বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এ ক্ষেত্রে সব এলাকার জন্য একই শিক্ষা ক্যালেন্ডার অনুসরণ না করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কোন কোন এলাকা দুর্যোগপ্রবণ, তা চিহ্নিত করার জন্য দুর্যোগঝুঁকির মানচিত্র রয়েছে। এসব তথ্য ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আগাম পরিকল্পনা করা সম্ভব। তবে এ ধরনের পরিকল্পনা শুধু শিক্ষা ক্যালেন্ডার ও পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। দুর্যোগের কারণে তৈরি হওয়া শিখনঘাটতি পূরণের ব্যবস্থাও থাকতে হবে।
বিকল্প উপায়ে পাঠদান-পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা
দুর্যোগের সময় বিকল্প উপায়ে পাঠদান চালু রাখা এবং পরীক্ষা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন। তিনি বলেন, স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা পাঠদান নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও বিকল্প উপায়ে তাদের পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এসব উদ্যোগ পরিকল্পিতভাবে সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, দুর্যোগপ্রবণ এলাকার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিশু-কিশোরদের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হলে যেসব শিক্ষার্থী নানা কারণে পিছিয়ে পড়ে, তাদের উপযোগী ব্যবস্থা নীতিগতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
দুর্যোগের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে যথাযথ তথ্য সংগ্রহ জরুরি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, দুর্যোগের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান সময়মতো তথ্য না দিলে বিকল্প ব্যবস্থায় তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। কারণ, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানা না গেলে প্রয়োজনীয় সহায়তা, পুনর্বাসন এবং শিক্ষা কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা যথাযথভাবে করা কঠিন।