আবহাওয়া অধিদপ্তর © সংগৃহীত
সারা দেশে কুয়াশার দাপট আর হাড়কাঁপানো শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। বৈরী আবহাওয়ায় বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ৬ জানুয়ারি থেকে ফের বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা। ধারণা করা হচ্ছে, এবার রাজধানীতে শীতের তীব্রতা গত ৭ বছরের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।
আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ঢাকায় রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ধীরে ধীরে বাড়বে, ফলে এই কদিন রাত ও দিনের তাপমাত্রা তুলনামূলক কিছুটা বেশি থাকবে। তবে ৬ জানুয়ারি সকাল থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত তাপমাত্রা দ্রুত কমতে পারে। এ সময়ে ঢাকায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ আরও জানান, বর্তমানে ভারী কুয়াশায় দেশের অধিকাংশ অঞ্চল ঢাকা থাকলেও আজ দুপুরের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে। ইতোমধ্যে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা অঞ্চলের কুয়াশা কিছুটা কেটেছে; সিলেট ও ময়মনসিংহের কিছু অংশেও কুয়াশা সরে গেছে। তবে কুয়াশা এখনই পুরোপুরি বন্ধ হবে না, আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে।
আরও পড়ুন: ধেয়ে আসছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, শুরু কখন—জানালেন আবহাওয়াবিদ
দেশে চলমান শৈত্যপ্রবাহ প্রসঙ্গে ড. ওমর ফারুক বলেন, গত তিন দিন ধরেই শৈত্যপ্রবাহ চলছে এবং আজও সাতটি জেলায় তা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে ৩১ ডিসেম্বর বরিশাল ও খুলনাসহ আরও কিছু অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ ছিল। তবে ৬ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে আবারও দেশজুড়ে শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে এবং দু-একটি এলাকায় তা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। সামগ্রিকভাবে গতবারের তুলনায় এবার শীত বেশি পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আকাশ আংশিকভাবে মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। বর্তমানে গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, পঞ্চগড়, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৪ মিনিটে এবং আগামীকাল রোববার সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪২ মিনিটে।
প্রসঙ্গত, আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী ঢাকায় ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি শীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। এটি ওই বছর শীতের সবচেয়ে কম তাপমাত্রা ছিল। এছাড়াও ২০২০ সালে ১১ জানুয়ারি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই পার্থক্য কমে যাওয়ার কারণেই দেশের অন্য জেলার তুলনায় নগরবাসী শীতের অনুভূতি বেশি পাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।