মতবিনিময় সভায় জ্বালানিমন্ত্রী © সংগৃহীত
ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম সহনীয় রাখতে সরকার সব ধরনের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, ভোক্তাদের জিম্মি করে কোনো দাবি আদায়ের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। আলোচনার টেবিলেই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট চলছে এবং জ্বালানির দাম ওঠানামা করছে। জ্বালানি সংগ্রহের উৎসও সীমিত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) ভোক্তাদের জন্য সহনীয় পর্যায়ে এলপিজির দাম রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে সরকার ইতোমধ্যে তিন দফা বৈঠক করেছে। তাদের বিভিন্ন সমস্যা পর্যালোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অপারেটরদের সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়েও বুধবারের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আগামী ৩০ অক্টোবর অপারেটরদের সঙ্গে আবারও বৈঠক হবে। বাজারের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
ধর্মঘটের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ধর্মঘট প্রত্যাহার না করা হলে সরকার আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে বিইআরসিকে জানানো হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে ধর্মঘটের চেষ্টা করা হলে এ-সংক্রান্ত ১৯৫৬ সালের আইন প্রয়োগ করা হবে। কথায় কথায় ধর্মঘট করে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের আস্থা ও স্বার্থ রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। জনগণ যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। যারা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন, তাদের আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, এলপিজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পণ্যের সঙ্গে দেশের কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্বার্থ জড়িত। তাই সরবরাহ ও বিপণনব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতা কিংবা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও বাজারব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দেশে ‘এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট, ১৯৫৬’ বলবৎ রয়েছে। এ আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ড সরকার বরদাশত করবে না।
ব্যবসায়িক বিরোধ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে লাভ-লোকসান, কমিশনসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। তবে এসব সমস্যা সমাধানে আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে শুনে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে আন্তরিক।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়িক বিরোধ কিংবা স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে বাজারকে ব্যবহার করা যাবে না। বিশেষ করে এলপিজির মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যবসায়ী, অপারেটর ও সরবরাহকারীদের জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখার পাশাপাশি যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সচিব, প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলওএবি) মহাসচিবসহ এলপি গ্যাস লিমিটেড, বসুন্ধরা এলপি গ্যাস, বেক্সিমকো, ওমেরা ও যমুনার ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় এলপিজি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন।