জ্বালানি-দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের বিক্ষোভ © টিডিসি ফটো
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। সমাবেশে জোটের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন অভিযোগ করেছেন, জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয়ে সরকার ‘অসমর্থ’; অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কিনতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন। বাসদের (মাহবুব) কেন্দ্রীয় নেতা মইনউদ্দিন চৌধুরী লিটন সমাবেশ পরিচালনা করেন।
ক্বাফী রতন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে পরিবহন ব্যয় ও উৎপাদন খরচও বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। একই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জনগণ নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত নাগরিক সেবা পাচ্ছে না। আদানিসহ বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির কাছ থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনে সরকার সেই বাড়তি ব্যয়ের চাপ জনগণের ওপর দিচ্ছে।
ক্বাফী রতন আরও বলেন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের মতো অগ্রাধিকার খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বিনিয়োগ করা না হলেও সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যয়ে ২৫টি বোয়িং বিমান কিনছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে সরকার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে একটি গোষ্ঠীকে লাভবান করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক জীবনও গভীর সংকটে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, হত্যা, ধর্ষণ, শিশুনির্যাতন ও সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর ভূমিকা না থাকায় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা বলেন, একদিকে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এটি সরকারের গুরুতর ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।
সমাবেশ থেকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, মজুতদারি ও বাজার কারসাজি বন্ধ, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নজরুল ইসলাম, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক রজত হুদা, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী এবং সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদসহ জোটের নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশ শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এতে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন।