রাবিতে ভর্তি আবেদন ফি এত কেন?

আবেদন ফি
শিক্ষার্থী ও রাবি লোগো  © ফাইল ফটো

দেশের উচ্চমাধ্যমিকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ দিতে বরাবরের ন্যায় এবারো ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। স্নাতক প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে চূড়ান্ত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৪৭ জন ভর্তিচ্ছু। আর আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রত্যেক ভর্তিচ্ছুদের প্রাথমিক আবেদনে ৫৫ (সার্ভিস চার্জসহ) টাকা এবং চূড়ান্ত আবেদনে ১ হাজার ১০০টাকা (সার্ভিস চার্জসহ) পরিশোধ করতে হয়েছে।

এদিকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় রাবিতে চূড়ান্ত আবেদন ফি প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি কেন এত বেশি, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ভর্তিচ্ছু ও অভিভাবকদের মনে। তাছাড়া ভর্তি ফি কমানোর দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী রাবি শাখা। তবে একজন ভর্তিচ্ছুকে যে কারণে এই পরিমাণ ফি পরিশোধ করতে হয় তার ব্যাখ্যা দিয়েছে রাবি প্রশাসন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয়কে উল্লেখযোগ্য পরিমান অর্থ ব্যয় করতে হয়। সেই ব্যয়ের হিসেব করে ও শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি নির্ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই ধারাবাহিকতায় এবছর প্রাথমিক আবেদনে ৫৫ টাকা (চার্জসহ) ও চূড়ান্ত আবেদনে ১১'শ টাকা (চার্জসহ) ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গতবছরের তুলনায় ২'শ টাকা কম। এই হিসেবে দেখা যায়, একজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে প্রায় ৫৯টি বিভাগ ও ইনিস্টিউটে নামমাত্র মূল্যে আবেদনের সুযোগ দিচ্ছে রাবি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বমোট ৫৯টি বিভাগ ও ছয়টি ইনস্টিটিউট রযেছে। এবছর ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে মোট তিন ইউনিটে অনুষ্ঠিত হবে পরীক্ষা। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের অন্তর্গত বিভাগ ও ইনস্টিটিউটসমূহ।

রেজিস্ট্রার আরো বলেন, পূর্বে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় এগারোটা ইউনিট ছিল। যেখানে আলাদা আলাদা ইউনিটে নির্ধারিত ফি দিয়ে শিক্ষার্থীরা আবেদন করত। বিভিন্ন ইউনিটে আবেদন ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য একাধিক বার আসতে-যেতে তাদের একটা উল্লেখযোগ্য পরিমান অর্থ ব্যয় হতো। এই সমস্যার কথা বিবেচনা করে ইউনিট সংখ্যা কমিয়ে তিনটি এবং পাশাপাশি দিনে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণের ব্যবস্থা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এখন একজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী একদিন থেকে দুদিনেই পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারবে। ফলে আগের তুলনায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি হচ্ছে অর্থের সাশ্রয়। সুতরাং সব কিছু বিবেচনায় আগের তুলনায় এখনকার নির্ধারিত ফি তেমন বেশি নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে দুই পর্যায়ে প্রাপ্ত ভর্তি আবেদন ফি হিসেব করলে দেখা যায়, এবছর ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নিকট ভর্তি ফরম বিক্রি করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট আয়ের পরিমাণ ১৫ কোটি ৭১ লাখ ৮৬ হাজার ২০৫টাকা। যেখানে প্রাথমিকে ৩ লাখ ৪ হাজার ৯৯১টি আবেদনের প্রত্যেক ৫৫ টাকা পরিশোধের ফলে মোট অর্থের পরিমাণ ১ কোট ৬৭ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৫ টাকা এবং চূড়ান্ত আবেদনে ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৪৭ জনের প্রত্যেকে ১ হাজার ১’শ টাকা পরিশোধ করায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ৪ লাখ ১১ হাজার ৭০০ টাকা।

ভর্তি আবেদন ফি থেকে প্রাপ্ত এই বিশাল অঙ্কের অর্থ কিভাবে ব্যয় হয় জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম বলেন, আসলে আয়টা সহজে হিসেব করা যায় সুতরাং সহজে চোখেও পড়ে। কিন্তু ব্যয়ের খাতটাও তো অনেক বড়। যেটা আমাদের ব্যয় করতে হয়।

তিনি বলেন, এই অর্থের অন্যতম ব্যয়ের খাত হচ্ছে ভর্তি পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী যারা প্রশ্ন তৈরি ও উত্তরপত্র মূল্যায়ণসহ পরীক্ষা কেন্দ্রিক বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। অন্যদিকে পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিট, প্রশ্নপত্র ও খাতাপত্র ইত্যাদি সরবরাহে ব্যয় করতে হয় এক বিশাল অঙ্কের টাকা। তাছাড়া বিএনসিসি, রোভার স্কাউট কর্মী ও দায়িত্বরত পুলিশ বাহিনীদের নাস্তাসহ আনুষাঙ্গিক আরো অনেক খাতে এ অর্থ ব্যয় হয়। এছাড়া এই অর্থের ৩০-৪০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় কোষাগারে জমা হয় বলে জানান এই রেজিস্ট্রার।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ