রাবির স্থগিত পরীক্ষা নিতে মন্ত্রণালয়ে প্রক্টরের খোলা চিঠি

খোলা চিঠি
রাবি প্রক্টর ও তার চিঠি  © টিডিসি ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত পরীক্ষাগুলো পুনরায় চালু করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে খোলা চিঠি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান।

বুধবার (৩ মার্চ) বিশ্বববদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবস্থা বিবেচনা করে উপাচার্যের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দিপু মণির বরাবর আবেদন পত্রটি প্রেরণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রক্টর।

চিঠিতে উল্লেখ করে লুৎফর রহমান বলেন, দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত আমাদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও গতবছরের ১৭মার্চ থেকে করোনা মহামারী কারণে সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে সেসময় বেশ কয়েকটি বিভাগের পরীক্ষা আটকে যায়। সম্প্রতি একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিভাগগুলো স্বাস্থ্য বিধি মেনে এসব আটকে যাওয়া পরীক্ষা নেয়া শুরু করে। বর্তমানে প্রতিটি বিভাগের পরীক্ষা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আপনার ঘোষণা মতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পরীক্ষা গুলো স্থগিত করায় শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। উপরন্তু পরীক্ষা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এলাকায় মেসে বাসা ভাড়া নিতে হয়েছিলো শিক্ষার্থীদের। এদের প্রায় সবাইকে মেসে বা বাসা মালিকদের বেঁধে দেয়া তিন মাসের ভাড়া পরিশোধ করতে হয়েছে।

এখন পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় পরিশোধ করা বাড়তি অর্থ ক্ষতির খাতায় রাখতে হচ্ছে। নিন্ম-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের এ ক্ষতি বহন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হিসেবে অসমাপ্ত পরীক্ষা গুলো সম্পন্ন করতে চিঠিতে শিক্ষা মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান।

জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, এই মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা শুধু আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করতে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর এই চিঠি প্রেরণ করেছি। আমরা আশা করছি বিষয়টি যথাযথ বিবেচনা করে খুব দ্রুতই এ ব্যাপারে একটা সুখবর আসবে।

এর আগে, ২৪ মে শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষাণা দিলে আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করতে বেশ নড়েচড়ে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে মিছিল, সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচিতে উত্তাল হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে তাদের পাশে থাকার ঘোষণা দেন রাবি প্রশাসন।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ