ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সন্তোষ রায় © সংগৃহীত
ব্রাহ্মণ না হয়েও দেশের প্রথম পুরুষ পুরোহিত হিসেবে পূর্জা অর্চনায় নেতৃত্ব দিয়েছে ইতিহাস সৃষ্টি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সন্তোষ রায় অজয়।
গত বছরের ৩০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে স্বরসতী পূজায় স্লোক ও হিন্দু ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ বেদ ও গীতা থেকে মন্ত্র পাঠ করেন অজয়। এদিন একইসঙ্গে আরো দুটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে। সন্তোষের বান্ধবী তমা অধিকারী প্রথম অব্রাহ্মণ নারী হিসেবে পূজায় স্লোক ও মন্ত্র পাঠ করেন। এর আগে তাদের সতীর্থ স্নিগ্ধা ব্যানার্জী প্রথম ব্রাহ্মণ নারী হিসেবে পূজায় মন্ত্র পাঠ করেন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রায় ৪০ জন হিন্দু শিক্ষার্থীকে নিয়ে এমন ইতিহাস গড়েন ২৫ বছর বয়সী অজয়। টানা দেড় ঘণ্টা বেদ ও গীতা পাঠ করে তিন হাজার বছরের রীতির ব্যত্যয় ঘটান তিনি।
পরে অনুপ্রাণিত হয়ে সিলেটেও ২৩ বছর বয়সী তরুণী রিঙ্কু রাণী দাস পূর্জা অর্চনায় নেতৃত্ব দিয়ে নজির স্থাপন করেন।
সন্তোষ রায় অজয় বলেন, 'আমি জাত-পাতে বিশ্বাস করি না। আমি একজন গর্বিত হিন্দু এবং আমি মনে একটাই জাত হওয়া উচিত, সেটা হচ্ছে সনাতন ধর্মী।'
অজয় আরো বলেন, 'পবিত্র গ্রন্থেই বলা আছে, আধ্যাতিক অর্জনে, চরিত্রে ও ধর্মজ্ঞানে অগ্রগামী হিন্দু যে কেউ মন্ত্রপাঠে পূজা অর্চনায় নেতৃত্ব দিতে পারে।'
২০১৯ সালের একটি দৃশ্য দেখে তাঁর বোধদোয় ঘটে। সেবার সরস্বতী পূজায় এক ব্রাহ্মণ পুরোহিতকে পূর্জা অর্চনার ঠিক আগ মুহূর্তে সিগারেট ধরাতে দেখেন। পরে ৩৫ বছর বয়সী ওই পুরোহিত সিগারেট শেষ করে মঞ্চে গিয়ে দ্রুত স্লোক মন্ত্র পাঠ সেরে অন্যত্র আরেকটি পূজার উদ্দেশে রওনা দেন। এই দৃশ্য তাঁর মনে দাগ কাটে। পঞ্চগড়ের হিন্দু কৃষকের ছেলে অজয় বলেন, 'পরে আমি পবিত্র গ্রন্থগুলো পড়তে শুরু করি। কোথাও লেখা দেখলাম না, শুধু ব্রাহ্মণরাই পুরোহিত হতে পারবে।'
তবে শত শত বছর ধরে যেটি বলা হয়ে আসছে, একমাত্র ব্রাহ্মণ পুরুষদেরই পুরোহিতের দায়িত্ব পালনের অধিকার রয়েছে। তারাই পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ করবে। তারাই সব পূজা অর্চনায় নেতৃত্ব দেবে।
সাম্প্রতিককালের হিন্দু তরুণ সমাজের মাঝে বিদ্যা, বুদ্ধি ও জ্ঞানের দেবী সরস্বতীর পূজায় বেশি আগ্রহ দেখা যায়। এবারের সরস্বতী পূজারও বেশি দিন বাকি নেই। সামনের পূজায়ও পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চান সন্তোষ রায় অজয়।