© ফাইল ফটো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসানকে মনগড়া অভিযোগের ভিত্তিতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বতন্ত্র জোট। ঢাবি প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে স্বতন্ত্র জোটের যুগ্ম-আহ্বায়ক রিয়াজুর রহমান প্রেরিত এক বিবৃতিতে এই কথা জানায় সংগঠনটি
বিবৃতে তারা জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩ অনুসারে দুইটি কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে শিক্ষকতা থেকে অব্যহতি দেয়া যেতে পারে- দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা ও নৈতিকস্খলন। স্বতন্ত্র জোট বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেছে যে অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ, তথা “বঙ্গবন্ধুর অবমাননা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি” কোনভাবেই দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা বা নৈতিকস্খলনের সাথে যুক্ত নয়।
এই ব্যাপারে গণমাধ্যমে আসা বক্তব্যে উদ্ধৃত- “অধ্যাপক ড. মোর্শেদহাসান খান তার লেখায় স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে যা লিখেছেন তা সুপ্রিমকোর্টের রায়ের পরিপন্থি। সংবিধানেরষষ্ঠতফসিলেরপরিপন্থি। তিনি ১৯৭১ সনের ২৫ মার্চের পরে যে আন্দোলনের চিত্র এঁকেছেন তা সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বর্ণিত বক্তব্যের পরিপন্থি। অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানের বিতর্কিত লেখাটি সংবিধানের ষষ্ঠ ও সপ্তম তফসিলে বর্ণিত তথ্যের পরিপন্থি ও ইতিহাসের বিকৃতি।”
স্বতন্ত্র জোট মনে করে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় কোনও স্বাধীন বিচার বিভাগ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত নয় ও সংবিধানের প্রচলিত সংস্করণের সাথে দ্বিমত পোষণ করার কারণে চাকরিচ্যুতি শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্ত চিন্তার পরিবেশ বাধা গ্রস্ত করবে। যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের প্রশাসন ও সরকারকে ঐতিহাসিকভাবে নেতৃত্ব দেয় ও তাদের হাতে সংবিধানের অসংখ্য সংশোধনী এসেছে, সেখানে সংবিধান নিয়ে এরূপ অনমনীয় মনোভাব দেশের উত্তরোত্তর উন্নয়নকেই বাধাগ্রস্থ করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
কোন বিষয়েকে উনি নিজের মতামত প্রকাশ করলে, অথবা অজ্ঞতা প্রসূত বক্তব্য দিলে তাঁর উপর শারীরিক-মানসিক আক্রমণ বা তাঁর অধিকার কেড়ে নেয়া কোন সমাধান নয়। বরং তাঁর বক্তব্যের ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়াটাকাম্য। অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন, তবে তাঁর প্রতিবাদ হিসেবে তাঁর ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়ে লেখা প্রকাশ করা যেত কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেয়া যেত। এছাড়াও, যদি বিশ্ববিদ্যালয় বা রাষ্ট্র মনে করে এতে আদালতের রায়ের অবমাননা হয়েছে, কিংবা সংবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে তবে সংক্ষুব্ধ পক্ষ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা রাষ্ট্র অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসানের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিতে পারতেন।
এই পথগুলো অবলম্বন না করে একটি ট্রাইব্যুনাল বসিয়ে বিচার করে তাঁকে অব্যাহতি দেয়া কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর কোথাও এভাবে ট্রাইব্যুনাল বসানোর বিষয়ে কোন নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ফলে কিসের ভিত্তিতে এই ট্রাইব্যুনাল বসানো হয়েছে এবং বিচারকেরা কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে নিযুক্ত হয়েছেন তাও পরিষ্কার নয়।
সর্বোপরি স্বতন্ত্র জোট মনে করে এই পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের সৃজনশীলতা ও গবেষণার স্থানকে আরো সংকুচিত করবে।