অধ্যাপক কামরুল হাসান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন © ফাইল ছবি
খারাপ শিক্ষক নিয়োগ দিলে তার উল্টো ইমপ্যাক্ট অন্তত ৩৫ বছর ধরে চলবে মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিসি নিয়োগ থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ পর্যন্ত সব কিছুতেই আবার সেই মাফিয়াতন্ত্র চালু হয়েছে। স্টাটিস্টিক্যাললি স্পিকিং, দেখবেন এখন আর সংখ্যালঘুরা যোগ্যতা সত্বেও সহজে চাকরি পাবে না। তাহলে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান কি বৃথা হলো না?’
বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এসব কথা বলেছেন ঢাবির এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, সম্প্রতি এক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিভাগে দুইজন নুতন শিক্ষক নিয়োগ হলো। সেই বিভাগেরই ছাত্র পিএইচডি করে দেশ ফিরে এসেছিল, কিন্তু তাকে না নিয়ে সদ্য মাস্টার্স পাস্ করা দুইজনকে নিয়োগ দিয়েছে। তাহলে বলুনতো আমাদের মেধাবীরা পিএইচডি শেষে কেন দেশে ফিরে আসবে।
অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেন, পিএইচডি ডিগ্রি আছে তাকে বাদ দিয়ে ফ্রেশ মাস্টার্সকে কত বড় রিস্ক বুঝতে পারছেন? পিএইচডির জন্য তাকে পূর্ণ বেতনে ছুটি দিতে হবে। কিন্তু পিএইচডি শেষে তার না আসার সম্ভবনা অনেক। আবার তাকে পোস্টডক্টরালের জন্যও ছুটি দিতে হবে। ভবিষ্যতে সে আদৌ পিএইচডি করতে পারবে কিনা, সেটাও সন্দেহ আছে। বিশ্ববিদ্যালয়েতো পিএইচডি না থাকলে শিক্ষকতার জন্য দরখাস্তই করতে পাড়া উচিত না।
আরও খবর: এশিয়ান ইউনিভার্সিটির বাসের ধাক্কায় ঝরল ৪ প্রাণ
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু তাই না সেই বিভাগে ৬ জন শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছে, যারা সবাই দুই শিক্ষকের থিসিস ছাত্র। এই রকম মাফিয়াগিরি আওয়ামী লীগ আমলেও মারাত্মকভাবে চলেছে। এখনো চলছে। এই জন্যই আমি বলি, শিক্ষক রাজনীতি মানেই মাফিয়াগিরি। এইবার যতদিন বিএনপি ক্ষমতায় থাকবে, কেবল সাদা দল করা শিক্ষকদের ছাত্ররাই শিক্ষক হবে।’
অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন আরও বলেন, ‘ছাত্ররাও জেনে যাব কাদের সাথে থিসিস করলে শিক্ষক হওয়া যায়। তাই তারা তাদের সাথে থিসিস করতে লাইন দেবে। এখানে পছন্দের বিষয়, পছন্দের শিক্ষক ইত্যাদির কোন বালাই নেই। এইরকভাবে আমরা শিক্ষার্থীদের নীতিনৈতিকতাকেও নষ্ট করছি। মানসম্মত উন্নত মানের ভালো একজন শিক্ষক নিয়োগ দিলে কি ইমপ্যাক্ট কল্পনা করতে পারেন।’