ভর্তি পরীক্ষা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় © লোগো
প্রথমবারের মতো চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারিতে (বিশেষ পরীক্ষা) বসার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এই পরীক্ষা নিয়ে একই মাসের শেষে ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে এর মাধ্যমে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের চলতি শিক্ষাবর্ষে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ দেওয়া যায়।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বর মাসেই অনুষ্ঠিত হবে। সেক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাওয়া ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।
তবে, এইচএসসির ফলাফলে অসন্তুষ্ট হওয়া পুনর্নিরীক্ষণের ফলের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন। গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) ফল প্রকাশের পরদিন ১ নভেম্বর (রবিবার) শুরু হয়েছে পুনর্নিরীক্ষণের এই আবেদন, যা চলবে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। আর পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল আগামী ২৭ নভেম্বর প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ নভেম্বর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার জন্য অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শুরু হবে। যা চলবে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আবেদনের সময়সীমা দুইদিন বাড়ানো যেতে পারে। যেহেতু আমাদের ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের শেষ সময় এবং এইচএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের সময় প্রায় একই সময়ে। তাই আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে আমরা প্রশাসনের সবাই একমত। তবে ভর্তি পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে।
সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ ডিসেম্বর ‘আইবিএ ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধ শুরু হবে। এরপর ১২ ডিসেম্বর ‘বিজ্ঞান ইউনিট’, ১৯ ডিসেম্বর ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’, ২২ ডিসেম্বর ‘চারুকলা ইউনিট (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন)’ এবং ২৬ ডিসেম্বর ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ভর্তি কার্যক্রম একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া মেনে করতে হয়। পরীক্ষা শুরুর ৩-৪ মাস আগ থেকে আবেদন শুরু, পরীক্ষা নেওয়া, ফল প্রকাশসহ—সব প্রক্রিয়ার শিডিউল হয়ে যায় সাধারণ ভর্তি কমিটিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কমিটির সুপারিশে। সেখানে মাঝখানে এসে ভর্তি পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি পরিবর্তন করা হলে পুরো প্রক্রিয়ায় বিপর্যয় দেখা দেবে। এজন্য পরীক্ষা পেছানোর সুযোগ নেই।