ঢাবির উদয়ন স্কুল

অশ্লীল ভিডিও তৈরির অভিযোগে সহপাঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলন, ছেলেকে উল্টো ‘হত্যাচেষ্টার’ অভিযোগ ঢাবি শিক্ষক বাবার

০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৪ PM , আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৮ PM
ঢাবি অধিভুক্ত উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

ঢাবি অধিভুক্ত উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সহপাঠীদের যৌন হয়রানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও তৈরি এবং কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করার পর এ তথ্য জানিয়েছেন অধ্যক্ষ। তবে এসব অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে ছেলেকে ‘হত্যাচেষ্টা’ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা।

বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। তার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থীকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং টিসি দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।

আর শিক্ষার্থীর বাবার ভাষ্য, ‘আমার ছেলেকে কলেজের ৭-৮ জন তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করেছে, হত্যাচেষ্টা চালিয়েছে। এ বিষয়ে আমিও আগেই কলেজে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, থানায় জিডি করেছি। এর তদন্তও চলছে। অবস্থা বেগতিক দেখে তারাও তদন্ত চলাকালে অভিযোগ দিয়েছে। এখন শিক্ষার্থীদের জড়ো করে আন্দোলন করছে। আমার ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।’

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষে থেকে বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, প্রক্টর অফিস ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে তাঁদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। 

অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি তাদের। তাদের অভিযোগ, আগের দিন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের কথা থাকলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চাপের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগীদের এক নারী সহপাঠী বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাদের অনেক সহপাঠীকে নিয়মিত আপত্তিকর মন্তব্য করতেন এবং মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পাঠাতেন। বিষয়টি নিয়ে তারা একাধিকবার নিষেধ করলেও অভিযুক্ত শিক্ষার্থী উল্টো তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন। সহপাঠীদের অজান্তে তাদের অশালীন ছবি অনলাইনে প্রচার করা হতো।’

তিনি বলেন, শিক্ষকেরা অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারাও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে সাহস পাননি। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের টিসি দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবি, শুধু টিসি দিয়ে নয়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

উদয়ন স্কুলে আন্দোলন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নবম শ্রেণির এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিদ্যালয়ের একটি টুর্নামেন্ট চলাকালে কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে তার পরিচিতির পরিসর বাড়ে। একপর্যায়ে দুই শিক্ষার্থী তাকে বিরক্ত করতে শুরু করে। তাদের একজন অভিযুক্ত ছেলেটি বলে উল্লেখ করেন তিনি। পরে অজ্ঞাত পরিচয় থেকেও তাকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করা হয়। এ ধরনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে বলে জানান তিনি।

ওই শিক্ষার্থী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টের মন্তব্যে তাকে ও তার সহপাঠীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হতো। পরে সেসব মন্তব্যের কিছু মুছে ফেলা হয়। টিকটকেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে বিচার চেয়ে নিজের একটি অজ্ঞাতনামা প্রোফাইল থেকে পোস্ট দেওয়ার পর তাকে ফেসবুকে গালাগাল করা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের বার্তা পাঠানো হয়। এসব ঘটনার কারণে বিষয়টি বিদ্যালয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে বুয়েটসহ অন্য জায়গায়ও আলোচনায় আসে। সেখান থেকেও তাকে এ বিষয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।

তিনি আরও বলেন, তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে অনেক আপত্তিকর মন্তব্য ও ব্যক্তিগত বার্তা আসতে থাকে। কিছু বার্তা তিনি দেখলেও বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেননি। পরে শিক্ষকদের কাছে গিয়ে বলেন, ‘ম্যাম, আমার সঙ্গে হ্যারাসমেন্টের ঘটনা ঘটছে।’ এরপর তার বন্ধুদেরও একইভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। শুধু তিনি নন, আরও অনেক ছাত্রী এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে আরেক ছাত্রীও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, তার ছবি নিয়েও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তবে ছবিটি সরাসরি তোলা হয়েছিল, নাকি স্ক্রিনশট নেওয়া হয়েছিল, তা তিনি নিশ্চিত নন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোনো মন্তব্যও করেননি। এসব ঘটনা নিয়ে তিনি অভিভাবকদেরও জানাতে পারেননি। তার দাবি, ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই এ ধরনের ঘটনা শুরু হয়েছে এবং এখনো তা বন্ধ হয়নি।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের একাধিকবার জানানো হলেও তাঁরা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেরি করেছেন। এ কারণে এখন তাঁরা থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার ভাষ্য, এ ধরনের আচরণ ‘বিকৃত মানসিকতার পরিচয়’; এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা তাদের হুমকি দিয়েছেন। এক ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাসায় গিয়ে তাকে চড় মারা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ওই ছাত্রীর অভিভাবককে উদ্দেশ করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা বলেছেন, ‘আপনার মেয়ে যেন এসব না করে। অন্যথায় এর ফল আরও খারাপ হতে পারে।’ তাদের কাছে এ ঘটনার প্রমাণও রয়েছে বলে দাবি করেন ওই শিক্ষার্থী।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরই তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তবে শিক্ষার্থীরা এর কয়েকজন সদস্যের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে অনাস্থা প্রকাশ করেছে। কমিটি গঠনের সঠিক তারিখ তাঁর মনে নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ১০ বা ১১ তারিখের দিকে এটি গঠন করা হয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে ১১ দিনের পূজার ছুটিও ছিল।

তিনি বলেন, তদন্ত চলাকালে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে বিশৃঙ্খলা এড়াতে লিখিত অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাদের আপাতত ক্লাস থেকে দূরে রাখা হয়েছে। তবে কাউকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি তৈরি হলে তা পূরণের দায়িত্বও তিনি নিয়েছেন। কোনো শিক্ষার্থী যেন পড়াশোনায় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা তার দায়িত্ব বলেও জানান তিনি।

তদন্ত কমিটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আপত্তির বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করা যায় কি না, সে বিষয়েও আলোচনা হবে। কমিটির সদস্যদের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আপত্তি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘তদন্তের ক্ষেত্রে আমি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা চাই। উপাচার্য স্যারও আমাকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি তদন্ত কমিটিকে বলেছি, তারা যেন নিরপেক্ষভাবে কাজ করে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর কোনো বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আপত্তি থাকলে তারা আমাকে লিখিতভাবে জানাবে। প্রয়োজন হলে আমি অধিকতর তদন্তের ব্যবস্থা করব। কোনো শিক্ষার্থীর প্রতি অন্যায় বা অবিচার করার সুযোগ আমি মেনে নেব না। কারণ আমার কাছে সব শিক্ষার্থী সমান। তবে যে অন্যায় করেছে, সে যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে আগে অবগত না থাকার কথা জানিয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমি যেদিন বিষয়টি জানতে পেরেছি, সেদিনই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগে বিষয়টি আমার কানে আসেনি। শিক্ষার্থীদেরও জিজ্ঞাসা করেছি, তারা কেন আগে আমার কাছে আসেনি। তারা জানিয়েছে, বিষয়টি বলতে তাদের লজ্জা লাগছিল।’

আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি, এ ধরনের কোনো সমস্যা হলে তারা তাদের মা-বাবাকে জানাতে পারত। অথবা শ্রেণির কোনো নারী শিক্ষককে জানাতে পারত, যার ওপর তাদের আস্থা রয়েছে এবং যার কাছে তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। কেজি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার সময়ে এমন কোনো শিক্ষক নিশ্চয়ই ছিল, যাকে তারা বিষয়টি জানাতে পারত। ওই শিক্ষক আমাকে জানালে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারতাম। কিন্তু আমার কাছে কোনো বার্তা আসেনি।’

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে কোনো অন্যায় মেনে নিতে পারি না। বিষয়টি আমার মেয়েসংক্রান্ত হলেও আমি একইভাবে ব্যবস্থা নিতাম। শিক্ষার্থীরা আমার সন্তানসম। তাদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব।’

তদন্ত কমিটির সদস্যদের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আপত্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কমিটির সদস্য নির্বাচনে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমি কারও কাছে ব্যক্তিগতভাবে কোনো সদস্য চেয়ে নিইনি। কমিটিতে কারা থাকবেন, সেটি নিয়ে আমার কোনো ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কাজ করেনি। এমনকি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কে কোন বিভাগের, সেটিও আমি আগে জানতাম না। পরে অফিসে জিজ্ঞাসা করে জেনেছি, একজন শিক্ষক রসায়ন বিভাগের।’

তদন্তে হস্তক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার অনুপস্থিতিতে বা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ যদি তদন্তে হস্তক্ষেপ করে, সেটি আমি মেনে নেব না। আমি নিজে, আমার চেয়ারম্যান কিংবা উপাচার্য যেখানে হস্তক্ষেপ করছেন না, সেখানে অন্য কারও হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।’

আন্দোলনকারীদের টিসি দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীদের টিসি দেওয়া হবে এ ধরনের কোনো কথা তিনি বলেননি। তার মুখ থেকে ‘টিসি’ শব্দটিও উচ্চারিত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘টিসিতে স্বাক্ষর করবেন কে? আমি। তাই আমার অনুমতি ছাড়া কাউকে টিসি দেওয়ার কথা বলার সুযোগ নেই। কোনো শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীদের এমন হুমকি দিয়ে থাকেন, তাহলে আমি তাঁর নাম জানতে চাই। শিক্ষার্থীদের বলেছি, এ ধরনের কোনো হুমকি পেলে তদন্ত কমিটিকে জানাতে। প্রয়োজনে আমাকে লিখিতভাবে জানাবে। আমি বিষয়টি চেয়ারম্যান স্যারের কাছে উপস্থাপন করব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে আটকে রাখা এবং ফ্লোরে তালা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তার দাবি, ক্লাস চলাকালে কিছু শিক্ষার্থী এক ফ্লোর থেকে অন্য ফ্লোরে গিয়ে ক্লাস ফাঁকি দেয়। তিনি চারতলায় গেলে শিক্ষার্থীরা পাঁচতলায় চলে যায়। এ কারণে একসঙ্গে সব জায়গায় নজর রাখা সম্ভব হয় না। তাই পিয়ন ও আয়া-খালাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু সময়ের জন্য ফ্লোরে তালা দিয়ে রাখতে বলা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘বিষয়টি এর বাইরে কিছু নয়। কোনো শিক্ষার্থী যেন ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে না পারে, সে জন্যই এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের আটকে রাখার অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।’

প্রধান শিক্ষক আরিফুর রহমান বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা তার দায়িত্ব। শিক্ষার্থীরা ভুল করলে তাদের সংশোধন করার দায়িত্ব শিক্ষকদের; তবে তাদের সঙ্গে কোনো অন্যায় করা যাবে না। তদন্ত কমিটি নিয়ে কোনো শিক্ষার্থীর আপত্তি থাকলে তা লিখিতভাবে জানাতে হবে। তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবেন এবং প্রয়োজন হলে পুনর্বিবেচনার ব্যবস্থা করবেন। পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু সুরাহা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

‘আমার ছেলেকে স্কুল থেকে সাত-আটটা বাচ্চা ধরে নিয়ে গেছে পলাশীর ছাদে। সেখানে পিটিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। সেখান থেকে আজিমপুর কলোনিতে নিয়ে পেটানোর পরে একজন তাকে বাঁচিয়ে রিকশায় পাঠিয়ে দিয়েছে। আমি এর বিচার চেয়ে অধ্যক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছে। এর তদন্ত চলছে। এটা হত্যাচেষ্টা, বাচ্চা না হলে এটা বড় ধরনের অপরাধ। এ কারণে আমার ছেলের নামে এআই দিয়ে কিছু তৈরি করে আন্দোলন করছে। আমার ছেলেকে ভিক্টিম করার জন্য এটি করছে, যেন তাদের শাস্তি না হয়। আমার ছেলের সঙ্গে যার, মূল সমস্যা- তারা ক্লাস সেভেন থেকে বন্ধু ছিল। সে সময় তাদের মধ্যে স্ল্যাং ল্যাঙ্গুয়েজের আদান-প্রদান হয়েছে বলে আমার ধারণা।’-অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন, ডিন, বিজ্ঞান অনুষদ

আরও খবর: শতভাগ ফেল ২৯৩ প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে ডাকছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড

অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষার্থীর বাবা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমার ছেলেকে স্কুল থেকে সাত-আটটা বাচ্চা ধরে নিয়ে গেছে পলাশীর ছাদে। সেখানে পিটিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। সেখান থেকে আজিমপুর কলোনিতে নিয়ে পেটানোর পরে একজন তাকে বাঁচিয়ে রিকশায় পাঠিয়ে দিয়েছে। আমি এর বিচার চেয়ে অধ্যক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছে। এর তদন্ত চলছে। এটা হত্যাচেষ্টা, বাচ্চা না হলে এটা বড় ধরনের অপরাধ।’

তিনি বলেন, ‘এখন তারা বুঝতে পারছে বড় সমস্যা তৈরি করেছে। এ কারণে আমার ছেলের নামে এআই দিয়ে কিছু তৈরি করে আন্দোলন করছে। আমার ছেলেকে ভিক্টিম করার জন্য এটি করছে, যেন তাদের শাস্তি না হয়। আমার ছেলের সঙ্গে যার, মূল সমস্যা- তারা ক্লাস সেভেন থেকে বন্ধু ছিল। সে সময় তাদের মধ্যে স্ল্যাং ল্যাঙ্গুয়েজের আদান-প্রদান হয়েছে বলে আমার ধারণা।’

এর বাইরে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেনি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো মেয়ের সাথে কখনো কথা বলে না। সে তেমন ছেলে না, ইন্ট্রোভার্ট টাইপের। স্ল্যাং ল্যাঙ্গুয়েজ বলার ঘটনাটাও ক্লাস সেভেন বা এইটের, দেড় বছর আগের। তারা সবাই এখন একসঙ্গে আন্দোলনে আছে। আমি আগে আবেদন করার পর তদন্ত কমিটি হয়েছে, সেখানে এসে ওরা অভিযোগ করছে।’

প্রধান শিক্ষক আরিফুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘শিক্ষার্থীর বাবার অভিযোগ পাওয়ার পর সেটির তদন্ত চলছে। এখনও রিপোর্ট পাইনি। এরইমধ্যে শিক্ষার্থীরা পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে আন্দোলন করছেন। তবে আমরা নিরপেক্ষভাবে সবকিছু করছি, এ বিষয়ে উপাচার্য স্যারের সঙ্গেও কথা হয়েছে।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাং রতন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে বিস্তারিত কোনো তথ্য নেই। তিনি যতটুকু জেনেছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। এটি আপাতত বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিষয়।

তিনি বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কোনো সহযোগিতা চাইলে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানো পর্যন্ত বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের এখতিয়ারভুক্ত নয়।

ঢাবি অধ্যাপক এ বি এম শাহাদাতের সঙ্গে আমার কোনো ‘বৈবাহিক সম্…
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
ইসরায়েলকে দেওয়া ৪ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন সহায়তা বন্ধের ঘোষণা…
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগে দল পেলেন সাকিব-নাহিদ-শামীম
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
ভর্তি আবেদনে জিপিএ যোগ্যতা কমাল আরও এক বিশ্ববিদ্যালয়
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছড়ানো অপতথ্য অনেকক্ষেত্রে অতির…
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950