আটকে পড়া উপাচার্যকে তালা ভেঙে উদ্ধার করল ছাত্রদল © টিডিসি ফটো
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (সিএলসি) পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দেওয়াকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ইনস্টিটিউটের একদল শিক্ষার্থী ভবনের ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তালা ভেঙে উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বের করে আনেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে সিএলসি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রার ভবনের ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা ইনস্টিটিউটের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবি জানান।
ইনস্টিটিউটের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহজালাল মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল, আমাদের ইনস্টিটিউটের শিক্ষকই পরিচালক হবেন। এটি স্বাভাবিক দাবি। আমরা কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে আসিনি। আমরা এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি। আমাদের ইনস্টিটিউট নতুন, সেখানে অগ্রগতি দরকার। এ জন্য আমরা ইনস্টিটিউটের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের উপযুক্ত মনে করছি।’
এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা শুরু হয়। সভা শেষে সন্ধ্যার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম রেজিস্ট্রার ভবন থেকে বের হতে গেলে ফটকে তালা দেখতে পান। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। পরে তাঁরা তালা ভেঙে উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বের করে দেন। উপাচার্যকে তাঁর ঢাকার কর্মসূচিতে যোগ দিতে গাড়িতে তুলে দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক। শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হলে বা প্রয়োজন হলে তারা আমার সঙ্গে দেখা করবে, কথা বলবে। কিন্তু রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে বা যারা তালা দিয়েছে এবং এর পেছনে যেসব শিক্ষকের হাত আছে বা যারা ইন্ধন দিয়েছেন, তাদের সবাইকে খুঁজে বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘আমরা যতটুকু জেনেছি, গতকাল সিএলসির পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর, যারা সরাসরি শেখ হাসিনার শাসনামল দীর্ঘায়িত করার জন্য কাজ করেছে, তাদের কিছু অনুসারী প্রথম ধাপে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলে।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের কথা শুনে আমলে নিয়ে বিদায় করে। কিন্তু পরবর্তীতে হামীমের লোকজন ও তাঁর অনুসারীরা এসে সিন্ডিকেট চলাকালীন সেখানে তালা দেয়। পরে বিষয়টি শুনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নেন এবং তালা ভেঙে উপাচার্যকে তাঁর ঢাকার কর্মসূচিতে যোগ দিতে গাড়িতে তুলে দেন।’
এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে সিএলসি ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়।
নতুন পরিচালক নিয়োগের পর ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রশাসনের কাছে তাঁর অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ইনস্টিটিউটের বিষয়সংশ্লিষ্টতা ও শিক্ষকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া উচিত ছিল।
অন্যদিকে, অধ্যাপক মানছুরকে দায়িত্ব গ্রহণ না করতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অধ্যাপক হামীমের বিরুদ্ধে। অধ্যাপক মানছুর এ বিষয়ে উপাচার্যকে অবহিত করেছেন বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। উপাচার্য অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।