ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল © টিডিসি ফটো
দীর্ঘ চার যুগেরও বেশি সময় পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের মূল ভবনের ১০১ নম্বর কক্ষ দখলমুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন কর্মচারীদের ব্যবহারে থাকা কক্ষটি গত ১১ সেপ্টেম্বর বাদ জুমা হল সংসদের নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে উদ্ধার করা হয়। এর ফলে প্রায় ৪৮ বছর পর কক্ষটি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
হল সংসদ সূত্রে জানা যায়, ১০১ নম্বর কক্ষটি ১৯৮০ সাল বা তারও আগে থেকে কর্মচারীদের দখলে ছিল। তবে ঠিক কোন সাল থেকে কক্ষটি কর্মচারীদের ব্যবহারে যায়, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ ২০১৫ সাল থেকে একজন হিসাবরক্ষক কক্ষটিতে বসবাস করছিলেন।
এর আগে ১৯৮৩ সাল থেকে অন্য এক কর্মচারী কক্ষটি ব্যবহার করতেন। শিক্ষার্থীদের নজরের বাইরে রাখতে কক্ষটির প্রবেশপথের কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের চলাচলের দিকের অংশে দেয়াল তুলে প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে বাইরে থেকে সেটি সাধারণ দেয়ালের মতোই দেখাত। তবে কর্মচারীদের চলাচলের পাশ দিয়ে কক্ষে প্রবেশের ব্যবস্থা খোলা রাখা হয়েছিল।
ডাকসু নির্বাচনের প্রচারণার সময় কক্ষটির বিষয়ে জানতে পারেন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ। পরে বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানানো হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে কক্ষটি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে অবহিত করা হয়। এরপর হল সংসদের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কক্ষটি দখলমুক্ত করা হয়।
আরও দেখুন: ডাকসুর অনার বোর্ড থেকে বাদ গোলাম রাব্বানী, নেই রাশেদও
হল সংসদ সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২৫ সালে ডাকসু নির্বাচনের পর হলের বিভিন্ন সমস্যা ও অনিয়ম চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা কক্ষগুলো উদ্ধারের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
প্রায় চার যুগ পর কক্ষটি দখলমুক্ত হওয়ায় হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কক্ষটির সংস্কার সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে।
এ বিষয়ে ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের এজিএস মহসীন উদ্দিন শাফি বলেন, ডাকসু নির্বাচনের প্রচারণার সময় আমরা কক্ষটির বিষয়ে জানতে পারি। পরে বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়ে কক্ষটি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে হলে আবাসন সংকট রয়েছে। একই সঙ্গে মূল ভবনে কোনো রিডিং রুমও নেই। তাই কক্ষটি আবাসন হিসেবে ব্যবহার করা হবে, নাকি রিডিং রুম করা হবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হল সংসদের জিএস ইমামুল হাসান বলেন, কক্ষটি দীর্ঘদিন ধরে কর্মচারীদের ব্যবহারে ছিল এবং বিভিন্ন সময়ে একাধিক কর্মচারী সেখানে অবস্থান করেছেন। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর হলের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি। ১০১ নম্বর কক্ষটি দখলমুক্ত করা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। ভবিষ্যতে হলের অন্যান্য দখলকৃত বা শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের বাইরে থাকা জায়গাগুলো নিয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।