ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রশাসন‌কে ‘হুমকি’, থানায় জিডি

০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৫ PM , আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২১ PM
স্যার পি. জে. হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হল

স্যার পি. জে. হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হল © ফাইল ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢা‌বি) স্যার পি. জে. হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হলের ক্যান্টিন ছাড়তে বলায় হলটির প্রশাসনে দায়িত্বরত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ‘প্রাণনাশের হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তনুজা মৌসুমী না‌মে এক নারীর বিরু‌দ্ধে। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই হলেরই মো. আবদুল হাই নামের এক কর্মকর্তা। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি ওই কর্মকর্তা জিডিটি করেন। 

জিডিতে মো. আবদুল হাই বলেন, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তনুজা মৌসুমীকে স্যার পি জে হার্টগ হলের ক্যান্টিন মৌখিকভাবে পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর ক্যান্টিন সংস্কারের জন্য তাকে দফায় দফায় অর্থ দেওয়া হয়। তবে সে অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় পরে পেশাদার একটি অ্যাসেট ইভালুয়েশন কোম্পানির মাধ্যমে কাজের মূল্যায়ন করা হয়।

জিডিতে বলা হয়, ওই কোম্পানির প্রতিবেদনে কয়েক লাখ টাকার কাজ না করেই অর্থ নেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য তনুজা মৌসুমীকে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও তিনি তা ফেরত দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি ক্যান্টিন পরিচালনা শুরু করলেও হলকে কোনো ভাড়া প্রদান করেননি । এ বিষয়ে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার আলোচনা করে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাড়া দেওয়ার জন্য তাকে বলা হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। এছাড়া ক্যান্টিনের খাবারের মান ও সেবা নিয়েও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মিত মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ আসছিল। এসব কারণে হল প্রশাসন তাকে ১ অক্টোবর ক্যান্টিনটি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

জিডিতে বলা হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টার দিকে ক্যান্টিন ছাড়ার নোটিশের বিষয়ে জানার পর তনুজা মৌসুমী একজন ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে হলের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থিত হন। এ সময় তিনি ক্যান্টিন ছাড়বেন না বলে জানান এবং হল প্রশাসনকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে গেলে হল প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় হলের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে স্যার পি. জে. হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল কাউসার বলেন, গত বছরের এপ্রিল মাসে আমরা তাকে মৌখিকভাবে ক্যান্টিন পরিচালনার অনুমতি দিই। এ লক্ষ্যে ক্যান্টিন সংস্কারের জন্য বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি পুরো কাজে গাফিলতি করেছেন। পরবর্তী সময়ে পেশাদার অ্যাসেট ইভ্যালুয়েশন করিয়ে আমরা তার কাজের হিসাবে অমিল পাই। সংস্কার বাবদ দেওয়া টাকা ফেরত চাইলেও তিনি তা ফেরত দেননি।

তিনি বলেন, এ ছাড়া ক্যান্টিনের বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে এ বছরের ১ অক্টোবর তাকে ক্যান্টিন ছেড়ে দিতে বলা হয়। কিন্তু এরপর তিনি হল প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ-সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজও আমাদের কাছে রয়েছে।

অধ্যাপক আবুল কাউসার আরও বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জানানো হলে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেন। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর স্যারকেও অবহিত করা হয়েছে।

শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা জিডিটির কপিটি পেয়েছি। ইতোমধ্যেই তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছি। বিস্তারিত আইওর থেকে জেনে জানাতে পারব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এবিএম ওবাইদুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টা সম্পর্কে অবগত আছি। তবে এটি হলের অভ্যন্তরীণ বিষয়, হল প্রশাসন দেখবে। উনাকে পরীক্ষামূলকভাবে ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ভালো করে তাকে পার্মানেন্ট করে নেওয়া হবে জানানো হয়েছিল। কিন্তু উনিই ওই ক্যান্টিনকে নিজের ভাবতে শুরু করেছেন। বরং প্রোভোস্টকে ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে হুমকি দিয়েছে। এটা মানহানিকর। এক্ষেত্রে তারা আক্রান্ত হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনি পদক্ষেপ নেবে।

স্থায়ী ঠিকানা না থাকা মুসলিম তরুণকে জমি দিলেন হিন্দু প্রতিব…
  • ০৪ অক্টোবর ২০২৬
কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা প্…
  • ০৪ অক্টোবর ২০২৬
নিজস্ব ভেন্যু পাচ্ছে এশিয়াডে পদক জেতা ‘উশু’
  • ০৪ অক্টোবর ২০২৬
জবিতে ‘ফ্যাসীবাদবিরোধী বিশ্বজিৎ চত্বর’ নির্মাণের ঘোষণা ঢাকা…
  • ০৪ অক্টোবর ২০২৬
মেট্রোরেলে ইন্টার্নশিপের সুযোগ, মিলবে মাসিক ভাতা ও সনদ, আবে…
  • ০৪ অক্টোবর ২০২৬
মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীকে ৩ মাস পর খোঁজে পেয়ে কান্নায় ভে…
  • ০৪ অক্টোবর ২০২৬