‎জাবিতে ২ বছরে পানির স্তর নেমেছে ৭.৬৪ ফুট

২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৮ PM , আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৯ PM
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত

‎জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উদ্বেগজনক হারে কমছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত পরিচালিত এক হাইড্রোজিওলজিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, এ সময়ে পানির স্তর প্রায় ২.৩৩ মিটার (৭.৬৪ ফুট) নিচে নেমে গেছে।

জাবির ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. মো. মিজানুর রহমান সরকার  ও অধ্যাপক ড. মাজেদা ইসলামের তত্ত্বাবধানে ‎গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হল, মওলানা ভাসানী হল, ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ, বিশমাইল ও মেডিকেল সেন্টারে স্থাপিত মনিটরিং কূপ (পিজোমিটার) থেকে এ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সব জায়গাতেই পানির স্তরের ধারাবাহিক নিম্নগতি দেখা গেছে।

‎গবেষকদের মতে, প্রতিদিন ক্যাম্পাসে প্রায় ৫.০৫ মিলিয়ন লিটার পানি উত্তোলন করা হচ্ছে, যেখানে প্রকৃত চাহিদা মাত্র ৩.৩০ মিলিয়ন লিটার। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ পানি অপচয় হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

‎বিশেষজ্ঞরা জানান, ক্যাম্পাসের নিচে থাকা ডুপি টিলা অ্যাকুইফার থেকে পানি উত্তোলন করা হলেও এর উপরে থাকা মধুপুর ক্লে স্তর পানির স্বাভাবিকভাবে মাটির নিচে জমা হওয়া (recharge) বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ফলে বৃষ্টির পানি সহজে মাটির নিচে প্রবেশ করতে পারছে না।

‎তাদের মতে, অতিরিক্ত পানি উত্তোলন, অপচয় এবং পর্যাপ্ত recharge না হওয়াই পানির স্তর কমে যাওয়ার প্রধান কারণ। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে তীব্র পানিসংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশেষজ্ঞরা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, কৃত্রিম recharge ব্যবস্থা চালু, পাইপলাইনের লিকেজ বন্ধ এবং পানি ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

‎এ বিষয়ে গবেষক ড. মাজেদা ইসলাম বলেন, ‘পানির স্তর নিম্নগতির পেছনে অতিরিক্ত ব্যবহার ও অপচয় বড় ভূমিকা রাখছে। তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় পাম্প চালানো হয়, ফলে অতিরিক্ত পানি ওভারফ্লো হয়ে অপচয় হয়। এছাড়া পাইপলাইনের ত্রুটি ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি নষ্ট হচ্ছে।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘দৈনন্দিন ব্যবহারে অসচেতনতার কারণেও পানি অপচয় বাড়ছে। যেমন—ব্রাশ করা বা বাসন ধোয়ার সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে ট্যাপ খোলা রাখা। এ ধরনের অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে অপচয় অনেকাংশে কমানো সম্ভব।’

‎পাশাপাশি ভবনভিত্তিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, আবাসিক ও একাডেমিক ভবনের পানির লাইন আলাদা করা হলে প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে এবং অপচয় কমবে।

‎এবিষয়ে গবেষক ড. মো. মিজানুর রহমান সরকার জানান, ‘ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পিজোমিটার স্থাপনের মাধ্যমে নিয়মিত পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি ব্যবহারিক শিক্ষার অংশ। তিনি বলেন, এই মনিটরিং প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করা গেলে আরও কার্যকরভাবে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।’

‎তিনি আরও জানান, ‘পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

‎এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জাবিতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পানিসংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

সরকার সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: প্রধানমন্…
  • ২১ এপ্রিল ২০২৬
ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী, এর আগেও কেটেছিলেন আর…
  • ২১ এপ্রিল ২০২৬
ছাত্রদল এখন ছাত্রলীগের ‘হেলমেট বাহিনী’র পুনর্বাসন সেন্টার: …
  • ২১ এপ্রিল ২০২৬
বাজেট অধিবেশনের আগে পে স্কেল বাস্তবায়নে আসছে কর্মসূচি
  • ২১ এপ্রিল ২০২৬
চমক রেখে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণা বিসিবির
  • ২১ এপ্রিল ২০২৬