ছাত্রদল নেতা আলা উদ্দিন © টিডিসি সম্পাদিত
দুই দশক আগে ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া ছাত্রদল নেতা মো আলা উদ্দিনকে পুনরায় হলে থাকার বিশেষ সুযোগ দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নিয়ে হল সংসদ ও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ছাত্রদল নেতা মোঃ আলা উদ্দিন ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী। রাজনৈতিক মামলা থাকার কারণে প্রথমবার পড়াশোনা করতে না পরলে তিনি প্রথমে ২০১৫ -১৬ শিক্ষাবর্ষে একবার পুনঃভর্তি হন। তারপর ২০২৩ -২৪ সেশনে দ্বিতীয়বারের মতো পুনরায় ভর্তি হন তিনি। এখন তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলে সিট এলটমেন্ট দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ৫ই আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সিদ্ধান্ত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার বিশেষ বিবেচনায় ৩৬ জন শিক্ষার্থীকে পুনঃভর্তি ও হলে থাকার অনুমতি দেয়। যার মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থীকে শেখ মুজিবুর রহমান হলে থাকার বিশেষ সুযোগ দেয়া হয়।
এ বিষয়ে শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদে সহসভাপতি (ভিপি) মো. মুসলিমুর রহমান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘হলে তিন-চার জন আদু ভাইকে সিট দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রভোস্ট স্যারকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম যাতে ওদেরকে সিট দেওয়া না হয়। কিন্তু মানবিক কারণ দেখিয়ে তাদেরকে ছাত্রত্ব ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং তাদেরকে সিট দেওয়া হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা উল্লেখ করে সিট প্রদান থেকে বিরত রাখার কথা জানালে হল প্রধ্যক্ষ প্রভাব খাটিয়ে হলে সিট দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন হল সংসদের ভিপি। তিনি বলেন, ‘স্যাররা তাদের একচেটিয়া প্রভাব খাটিয়ে আমাদের কথা, আমাদের দাবি না রেখেই ওদেরকে সিট দিয়েছিল এবং তারা বর্তমানে হলে সিটে আছে।’
শেখ মুজিবুর রহমান হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড মো আক্তারুজ্জামান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘কিছু স্টুডেন্ট যারা ১৭ বছর ক্যাম্পাসে থাকতে পারেনি অথবা ৭-৮ সেশন বা ১২-১৩ সেশনের যাদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছিল, তারা তৎকালীন উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান স্যারের কাছে আবেদন করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্পেশাল পারমিশনে তারা ছাত্রত্ব ফিরে পায়। তাদের এই ব্রেক অফ স্টাডিটাকে রেগুলার স্টুডেন্ট হিসেবে গণ্য করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিং এবং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তটা যে শিক্ষার্থী যেই হলে আছে সেই হলের প্রভোস্টদের ইনফর্ম করা হয়। যে এদেরকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তারা রেগুলার ছাত্র হিসেবে ট্রিট হবে। এবং তারা যদি হলে আবেদন করে, হলে সিট ফাঁকা থাকে আর নিয়মমাফিক যদি তারা আবেদন করে তাহলে তাদেরকে সিট দিতে হবে।’
উল্লেখ, ২০২৪ সালের ১৬ ও ১৭ই জুলাই হল গুলো থেকে ছাত্রলীগের দখলদারিত্ব মুক্ত করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে হল গুলোতে শিক্ষার্থীদের সিট বন্টনের বিষয়ে কিছু নীতিমালা প্রণয়ন করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। কিন্তু কিছু দিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট থেকে সিট বন্টন নীতিমালা গুলো মুছে দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণরুম-গেস্টরুম বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে নেওয়া আবাসিক হল/হোস্টেলসমূহে শিক্ষার্থী ওঠানোর বিষয়ে নির্দেশনার দ্বিতীয় ধারায় বলা হয়, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ অথবা বিভিন্ন কারণে ছাত্রত্ব নেই অথবা মাস্টার্স চূড়ান্ত পরীক্ষা (ইন্টার্নশীপ/ফিল্ডওয়ার্ক/প্রজেক্ট/থিসিস (লিখিত ও মৌখিক)/ব্যবহারিক/ভাইভা, ইত্যাদি) শেষ করেছে অথবা স্নাতক (সম্মান) পাশ করেছে কিন্তু নিয়মিত ব্যাচের সাথে মাস্টার্সে ভর্তি হয়নি এমন শিক্ষার্থী হলে/হোস্টেলে উঠতে পারবে না। এই সকল শিক্ষার্থীর জিনিসপত্র যদি হলে/হোস্টেলে থাকে, তাহলে হল/হোস্টেল-এর সকল পাওনা পরিশোধ করে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষিত নির্ধারিত তারিখের মধ্যে নিয়ে যেতে হবে। অন্যথায় হল/হোস্টেল কর্তৃপক্ষ তাদের কক্ষ থেকে জিনিসপত্র অপসারণ করবে এবং এই সমস্ত জিনিসের দায়-দায়িত্ব হল/হোস্টেল কর্তৃপক্ষ বহন করবে না।’