নতুন উপাচার্য হিসেবে আলোচনায় ৫ শিক্ষকের নাম © টিডিসি সম্পাদিত
ঘোষণার ১২ দিনের মাথায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। আজ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন তিনি। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী তাকে ফুল দিয়ে বিদায়ী শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।
তার এই পদত্যাগপত্র জমাদানের ফলে শূন্য হতে চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ এ পদটি। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেই নতুন আরেকজনকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ এই পদে নিয়োগ পেতে আলাপ-আলোচনা চলছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
উপাচার্য পদে কারা নিয়োগে পাচ্ছেন- তা নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা-গুঞ্জন শুরু হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে; যাতে এগিয়ে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। এরমধ্যে থেকে একজনকে নিয়োগ দিয়ে চলতি সপ্তাহের যেকোনো সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে- এমনটাই জানা গেছে।
আরও পড়ুন: পদত্যাগ করলেন ঢাবি ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান
জানা যায়, এসব পদে নিয়োগে পেতে এগিয়ে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবেও নেতৃত্ব দেন।
পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের এই অধ্যাপক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের সভাপতিও ছিলেন।
আলোচনায় রয়েছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামও। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) এর বর্তমান সভাপতি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এই অধ্যাপক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবেও নেতৃত্ব দেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাগেরহাট-৪ আসনে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি করে আসছেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রাপ্তিতে তিনি আলোচনায় ছিলেন।
এছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, কলা অনুষদের ডিন ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, সাদা দলের বর্তমান আহ্বায়ক ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানও রয়েছেন আলোচিতদের তালিকায়।
অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান ইউট্যাবের বর্তমান মহাসচিব এবং বিএনপির নির্বাহী কমিটির গণশিক্ষা সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুইদিন আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি জরুরি এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেছিলেন, আপৎকালীন পরিস্থিতি দূর হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আমি এখন মনে করছি, দায়িত্ব পালনের পর্বে আমরা একটা ভালো পর্যায়ে এসেছি এবং আমি সরে দাঁড়াতে চাই।
ওই সময় তিনি আরও বলেছিলেন, এখন এই মুহূর্তে যেন কোনো শূন্যতা না হয়, ধারাবাহিকতা যেন কোনো অসুবিধায় না পড়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মুথ ট্রানজিশন দরকার, সে জন্য যদি সরকার ও অংশীজনেরা মনে করেন আরও কিছু সময় এই ধারাবাহিকতার প্রশ্নে, হঠাৎ শূন্যতা যেন না হয়, সেই প্রশ্নে যদি তারা কিছু সময় নিতে চান, আমি সেটি বিবেচনা করতে রাজি আছি।
জরুরি এই সংবাদ সম্মেলনের ১২ দিনের মাথায় এসে আজ সকালে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন। এসময় উপাচার্যকে শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া ফুলের তোড়ায় লেখা ছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান-কে শুভেচ্ছা। নিচে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের নাম লেখা ছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ওই মাসের ২৬ তারিখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। তবে সেসময় তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর ভারপ্রাপ্ত ভিসির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।