ঢাবিতে ‘নির্বাচনী শুদ্ধতা’ নিয়ে সেমিনার

নির্বাচনে ফলাফলের মার্জিন বদলে দেবে ‘লিগ্যাল ডিজিটাল ইঞ্জিনিয়ারিং’

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:২০ PM
সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়

সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয় © সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মনস্তত্ত্ব ও ফলাফলের মার্জিন বদলে দেবে ‘লিগ্যাল ডিজিটাল ইঞ্জিনিয়ারিং’। সরাসরি বেআইনি না হলেও ডিজিটাল টুলস ব্যবহারের মধ্য দিয়ে এই ইঞ্জিনিয়ারিং করা হচ্ছে। ভোটের আগে অনুভব করা না গেলেও ফলাফল ঘোষণার পর এর ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) নির্বাচনী শুদ্ধতা নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে পলিটিক্যাল অ্যান্ড পলিসি সায়েন্স রিসার্চ ফাউন্ডেশন (পিপিএসআরএফ) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান এই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ধারণা তুলে ধরেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে ‘ইলেক্ট্ররাল ইন্টিগ্রিটি: ফ্রম ক্যাম্পেইনিং টু ভোট কাউন্টিং অ্যান্ড দ্য রেজাল্ট ডিক্লেয়ারেশন’ শিরোনামে এই সেমিনার আয়োজিত হয়। পিপিএসআরএফ এই সেমিনারের আয়োজন করে। এতে কৌশলগত পার্টনার ছিল ইউনেস্কো, বাংলাদেশ পলিটিকাল সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ কাউন্সিল। সেমিনারটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি এবং সান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন করেন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান। ঘোষণাপত্রে তিনি বলেন, নির্বাচনী সততাই হল গণতান্ত্রিক বৈধতার মূল ভিত্তি। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আমরা এটি স্বীকার করি যে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কেবল ভোটের দিনের বিষয় নয়; বরং এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া যার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অপরিহার্য।

অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান তার বক্তব্যে ‘লিগ্যাল ডিজিটাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামে নতুন একটি ধারণার কথা বলেন। তিনি বলেন, এইবারের ভোটে এক ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং হওয়ার আশঙ্কা আছে, তবে তা ভোট কারচুরি বা সরাসরি কারচুপির ইঞ্জিনিয়ারিং না; বরং নির্বাচনের আগে ও দিনে ক্যাম্পেইনের সময় ব্যাপক ডিজিটালাইজেশনের ব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি ইঞ্জিনিয়ারিং। সোশ্যাল মিডিয়া, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আর ছোট ছোট কমিউনিটি গ্রুপ ব্যবহার করে বিশেষ করে আনডিসাইডেড সমর্থক গোষ্ঠীর কাছে বারবার পৌঁছে তাদের ডিসিশনকে প্রভাবিত করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সুনির্দিষ্ট ভোটারের কাছে অ্যালগরিদমিক টুল বা অনুরূপ ডিজিটাল কৌশলের মাধ্যমে পৌঁছে কখনো কোনো প্রার্থীর পক্ষে, আবার কখনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের ডিমোরালাইজ করার কাজ হচ্ছে বা হবে। এর প্রভাব আমরা ভোটের আগে অনুভব করি না, কেবল ফলাফল ঘোষণার পর তার ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে এই নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং সরাসরি বেআইনি কাজের ভেতর না পড়লেও, বৈধ ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে ভোটের মনস্তত্ত্ব ও ফলাফলের মার্জিন বদলে দেওয়ার এক জটিল প্রক্রিয়া হিসেবে সামনে আসে।

সেমিনারে নির্বাচনী শুদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরালদ গুলব্রান্ডসন, ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সুজান ভাইজ ও শ্রীলঙ্কার কেলানিয়া ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার ড. জর্জ কুক প্রমুখ। নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরালদ গুলব্রান্ডসন নরওয়ের নির্বাচনী সংস্কৃতি তুলে ধরে বলেন, নরওয়ের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী। তারা একসাথে পুরো ব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাখতে কাজ করে। নির্বাচনী প্রচারণা সাধারণত প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক হয়ে থাকে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে, নাগরিক পর্যায়ের আলোচনা ও বিতর্ক ততই তীব্রতা লাভ করে। রাজনৈতিক দলের সদস্যরা প্রায়শই জনসমক্ষে পাশাপাশি প্রচারণায় অংশ নেন এবং করব্যবস্থা, সামাজিক কল্যাণ, কর্মসংস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন, ও রাষ্ট্রের সঙ্গে জাতীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজেদের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করেন।

তিনি আরও বলেন, নরওয়েতে জাতীয় টেলিভিশনে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ব্যাপক পরিসরে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিপুল দর্শক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। পাশাপাশি যুব সংগঠন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে স্কুলভিত্তিক বিতর্ক, মাসব্যাপী জনসংযোগ ও মতামত সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব উদ্যোগের ফলাফল অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচনের আগেই প্রকাশ করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অল্প বয়স থেকেই জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয় এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করা যায়, যার ফলে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ ভোটার উপস্থিতি বজায় থাকে।

ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সুজান ভাইজ বলেন, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনটি এমন একটি প্রথম অভিজ্ঞতা, যেখানে সাইবার নিরাপত্তা একটি বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে। পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম থাকায় এই বিষয়টি ততটা গুরুত্ব পায়নি। ফলে এটিই প্রথম উন্মুক্ত নির্বাচন, যেখানে সাইবার নিরাপত্তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, তা মূলত মৌলিক ও প্রাথমিক প্রস্তুতির ওপর কেন্দ্রীভূত। কারণ প্রযুক্তিগত পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তনশীল। আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত যে পদ্ধতি বা চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান, আগামীকাল তা ভিন্ন রূপ নিতে পারে এবং নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই সাইবার নিরাপত্তাকে কোনো এককালীন উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং একটি ধারাবাহিক ও অভিযোজনযোগ্য প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কার কেলানিয়া ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার ড. জর্জ কুক শ্রীলঙ্কার নির্বাচনী ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে বলেন, ৯৫ বছরের যাত্রার দিকে ফিরে তাকালে আমরা এমন বহু পরিস্থিতি দেখতে পাই, যেখানে গণতন্ত্র আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে দেশটি নানা পর্যায় অতিক্রম করেছে, এবং আমরা এমন একটি প্রক্রিয়ার সাক্ষী হয়েছি যার মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়মিতভাবে ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।এ বিষয়ে আমরা সবসময়ই স্পষ্ট থেকেছি যে নেতারা কখনো কখনো বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে নির্বাচিত হন, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্বাচন ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তন বা ‘ব্রেকথ্রু’ সৃষ্টি করে।

তিনি বলেন, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক রূপান্তর আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এই রূপান্তর ঘটে। নির্বাচন আহ্বানের মুহূর্ত থেকে, অর্থাৎ নির্বাচন ঘোষণার সময় থেকেই নানা মত ও কণ্ঠস্বর সামনে আসে, যা শোনা এবং বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য। যারা প্রচারণায় অংশ নেয়, যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, তারা নিজেদের বক্তব্য ও বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চায়। এই পর্যায়ে জনগণের দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভোটারদের অবশ্যই অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে তাদের পছন্দ নির্ধারণ করতে হয় কে নেতৃত্ব দেবে তা বোঝা, প্রার্থীদের নীতিমালা কী, তাদের অগ্রাধিকার ও উদ্দেশ্য কী, সেগুলো অনুধাবন করা জরুরি। একই সঙ্গে জনগণের দায়িত্ব হলো নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির জন্য তাদের জবাবদিহির আওতায় রাখা, যাতে নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো বাস্তব নীতিতে রূপ নেয় এবং সেই নীতিগুলো কেবল প্রণয়নেই সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।

মিয়ানমারে পাচারকালে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ, আটক ১
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
সারারাত এপাশ-ওপাশ? গভীর রাতে আরামদায়ক ঘুমের জন্য মেনে চলুন …
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
চবিতে ছাত্রদল নেতা মুছাকে স্মরণ, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার…
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
গভীর রাতে গুনাহ মাফ ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ আমল 
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে…
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে জামায়াতকর্মী নিহত
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950