জগন্নাথ হলের পুকুরে বিদ্যাদেবী সরস্বতী © সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হলে বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি)। এ বছর জগন্নাথ হল প্রশাসনের কেন্দ্রীয় পূজাসহ মোট ৭৬টি মণ্ডপে সরস্বতী পূজার আয়োজন হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৪টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা এ পুণ্য আয়োজনে অংশগ্রহণ করবেন। দুইদিনব্যাপী এ আয়োজনে থাকবে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও রক্তদান কর্মসূচি। এছাড়াও হলের অভ্যন্তরে দর্শনার্থী শিশু-কিশোরদের চিত্তবিনোদন উপযোগী বেশ কিছু রাইড, খেলনা ও বিশুদ্ধ খাবারের দোকানের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন ও শিক্ষা), কোষাধ্যক্ষ ও প্রক্টরের সার্বক্ষণিক ও কার্যকর তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে জগন্নাথ হল প্রশাসন হল উপাসনালয় তথা কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপ থেকে শুরু করে সমগ্র হল প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় লোকবল ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আমাদের পাশে রয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), শাহবাগ থানা ও ফায়ার সার্ভিস।
এতে বলা হয়, সনাতন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সব রীতি, আচার, প্রথা, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধাশীল হয়েই আমরা এই পূজা আয়োজনের যাবতীয় প্রস্তুতি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদ ও অন্যান্য শিক্ষার্থী প্রতিনিধি আমাদেরকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে চলেছে। হলের অভ্যন্তরে ও তৎসংলগ্ন পারিপার্শ্বিক এলাকাতে পূজায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক প্রতিমা-দর্শন ও শিশু-কিশোরদের বিনোদনমূলক স্থাপনায় পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করার নিমিত্তে সবার জন্য অবশ্য অনুসরণীয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাসংবলিত লিফলেট বোর্ড বড়ো আকারে হলের প্রত্যেক প্রবেশদ্বারে ও উপাসনালয় সংলগ্ন স্থানে সহজে দৃশ্যমান করে টানানো হয়েছে। তন্মধ্যে, সমগ্র জগন্নাথ হল সিসি ক্যামেরার আওতাধীন থাকবে, প্রবেশমুখে মেটাল ডিটেক্টরসহ অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার থাকবে, ছোট শিশুদের দুগ্ধ সেবনের জন্য বিশেষ নিরাপদ একটি কর্নার স্থাপন করা হয়েছে, কোনো ধরনের পটকা বা আতশবাজির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ স্টিকার সরবরাহ করা হয়েছে। পলাশীস্থ ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আমরা হলের শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে একটি অগ্নি নির্বাপণ মহড়ার সফল আয়োজন করেছি।
দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হল সৃষ্টির প্রারম্ভ থেকেই সকল ধর্ম-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করে আসছে। আমরা সর্বদাই সকল ধর্মের প্রতি সমান ও বৈষম্যহীন আচরণের মাধ্যমে এক সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন টেকসই সমাজ বিনির্মাণে সদা যত্নশীল। আমরা জগন্নাথ হল প্রশাসন প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুদের মাধ্যমে সকল ধর্ম, মত, আদর্শ, শ্রেণি, পেশার মানুষকে জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে এই সরস্বতী পূজায় সুস্বাগত ও সাদর নিমন্ত্রণ জানাচ্ছে। এ উৎসবে আগত সকল পুণ্যার্থীর শুভাগমনে জগন্নাথ হল সম্প্রীতির বন্ধনের এক অপূর্ব মিলনমেলায় রূপ নিবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। এ মাঙ্গলিক ও সর্বজনীন আয়োজনে আপনাদের সানুগ্রহ উপস্থিতি আমাদের হল পরিবারকে অনুপ্রাণিত করবে।