দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে প্রতিবেদন

দেড় বছর পর প্রক্সিকাণ্ডে জড়িত তিন রাবি শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল

০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৬ PM , আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৮ PM
ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া তিন রাবি শিক্ষার্থী (শোভন, বর্ণ, সনি: বাঁয়ে থেকে)

ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া তিন রাবি শিক্ষার্থী (শোভন, বর্ণ, সনি: বাঁয়ে থেকে) © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের (স্নাতক) ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সিকাণ্ড নিয়ে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এলে ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রতিবেদনের সত্যতা পেয়ে গতকাল (৬ জানুয়ারি) তিনজনের ছাত্রত্ব বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট।

ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস’ বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সনি, আইন বিভাগের ফাহিম আল মামুন বর্ণ, ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শোভন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিন্ডিকেট সদস্য ও আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দীন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, প্রক্সির মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় গতকালের সিন্ডিকেটে তিনজন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করা হয়েছে। 

এর আগে, ‘রাবিতে চার শিক্ষার্থীকে ভর্তি করিয়েছেন একই প্রক্সিদাতা’ শিরোনামে প্রকাশিত দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়ে চার জনকে ভর্তি করিয়েছেন একই প্রক্সিদাতা। তাদের মধ্যে তিনজন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছেন। তারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস’ বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সনি, আইন বিভাগের ফাহিম আল মামুন বর্ণ, ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শোভন। তবে একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও তিনি ভর্তি হননি।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে ঢাবি ইসলামের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যানের মৃত্যু

এরপর প্রতিবেদনের সত্যতা প্রমাণে ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমানকে সভাপতি করা হয়। সদস্য করা হয় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসুদ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান ও সাবেক আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্যাকে। এছাড়া সদস্য সচিব হিসেবে আছেন উপ-রেজিস্ট্রার এ.এইচ.এম. আসলাম হোসেন।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ফাহিম আল মামুন বর্ণ ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৮২.৬০ স্কোর করে ৪৬তম মেধাস্থান অর্জন করে ভর্তি হন আইন বিভাগে। তার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ২১১০২১৬১২৬ এবং রোল নাম্বার ৫৪১৩৭। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত আছেন। তিনি রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

একই পন্থা অবলম্বন করে ‘সি’ ইউনিটে ৭৯ দশমিক ৭০ নম্বর পেয়ে ভর্তি হন মো. শোভন। বর্তমানে তিনি ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত আছেন। তার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ২১১০৯২৯১১২ এবং রোল নাম্বার ৭১১০৬। তিনি রাজশাহীর মতিহার থানার বুধপাড়া গ্রামের মো. গোলাম সারওয়ারের ছেলে। তিনি রাবি শাখা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার ভাতিজা।

‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মেহেদী হাসান সনি প্রক্সির মাধ্যমে ৭২ দশমিক ৬৫ নম্বর পেয়ে ১৬তম মেধাস্থান অর্জন করেন। তার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ২১১০৩৩৩১৭০ এবং পরীক্ষার রোল নাম্বার ৯৬১১৫। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত রয়েছেন।  

 

 

 

মানবিক-ব্যবসায়ে কেউ পাস করেনি, ক্ষোভে শিক্ষকদের তালাবদ্ধ কর…
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
স্কুলটি থেকে পাস করেছেন মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের রেজুলেশন বাতিলের দাবিতে শ…
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেওয়া ঋতুর এসএসসিতে জিপিএ-৫, উচ্চ শি…
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
এসএসসিতে আরও কমল পাসের হার, নেপথ্যে ৫ কারণ
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
কুষ্টিয়া জেলা এনসিপির আহ্বায়ক টনি, সদস্য সচিব তালহা
  • ১০ আগস্ট ২০২৬