রাবির ফরম পূরণে জটিলতা, আইসিটি সেন্টারের ওপর দায় চাপালেন প্রভোস্ট কাউন্সিল আহবায়ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৫২ PM , আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:০৮ PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় © ফাইল ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলসংক্রান্ত বিভিন্ন ফি জমা দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হচ্ছে তাদের। এ অব্যবস্থাপনার দায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালকের ওপর চাপিয়েছেন প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহবায়ক ও মন্নুজান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আসিয়ারা খাতুন। তবে অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ছাইফুল ইসলাম। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সেমিস্টার পরীক্ষার আগে আবাসিক হলগুলোয় ইউনিয়ন ফি, ক্রীড়া ফি, লাইব্রেরি ফি, ইন্টারনেট ফি ও বিবিধ খাতে অর্থ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি প্রথম বর্ষের অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের এককালীন ১ হাজার ৪০০ টাকা পরিশোধ করতে হয়। পূর্বে এসব অর্থ একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ম্যানুয়ালি জমা দেওয়া হতো।

পরবর্তীতে ‘ই-রেজাল্ট অটোমেশন’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনলাইনে ফি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার মুখে পড়ে দপ্তরটি সে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায় এবং পুনরায় হল প্রশাসনের ওপর দায়িত্ব ন্যস্ত করে।

পুনরায় দায়িত্ব পেয়ে হলগুলো একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আলাদা আলাদা খাতে ফি জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেয়, পূর্বে যেখানে একটি অ্যাকাউন্টে জমা দিলেই চলতো। ফলে ব্যাংকগুলোতে সৃষ্টি হয় চরম ভিড় ও বিশৃঙ্খলা, যার ফলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

এ নিয়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি ব্যাংকে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার কারণ তুলে ধরে দাবি করেন, আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অপারগতা প্রকাশ করায় অনলাইন পদ্ধতি বন্ধ করা হয়েছে। পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, আইসিটি সেন্টারের পরিচালক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েও পদে বহাল রয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো সমাধানে উদাসীন ভূমিকা পালন করছেন।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আজ (১৯ ডিসেম্বর) ব্যাংকে যে হুড়োহুড়ি, সেটার কারণ খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানের একটা সামারি করি, তারপর আপনারা কারে গালি দেবেন, সেটা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়েন। ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ফি দিতে পেরেছে তারপর আবার সে আগের কাহিনী শুরু হয়েছে।’

ইউনিয়ন ফি, ক্রিড়া ফি, লাইব্রেরি ফি, ইন্টারনেট ফি, বিবিধ সবকিছুর আলাদা আলাদা রিসিট, আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে। যেহেতু এটা আগে অনলাইনে ছিল, তাই এই বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহবায়ককে কল দিলে তিনি জানতে পারেন, আইসিটি পরিচালক নাকি অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘উনি (আইসিটি সেন্টারের পরিচালক) যদি অপারগতা প্রকাশ করেন, তাহলে তর ওই জায়গায় থাকার কী দরকার? আমি গেলে এখন লাগবে মারামারি, আমাকে নিয়ে দিন রাত পোস্ট করে বেড়ায়। ওয়াইফাই ঠিক করতে রাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক তার কাছে গেলে উলটো রাকসুর সম্পাদককে ৪ কোটি টাকার বাজেট হাতে ধরায়ে দিয়েছে।’ 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ছাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পরীক্ষার সময়ে হলের ফি অনলাইনে দেওয়া বিষয়ে আইসিটি সেন্টারের অপারগতার দাবি ডাহা মিথ্যা ছাড়া কিছুই নয়। হল প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহবায়ক এ বিষয়ে তো দূরে থাক, কোনো বিষয়েই আমার সাথে কথা বলেননি। হলের ফি নেওয়ার বিষয়ে আইসিটি সেন্টার কোনোভাবেই জড়িত নয়। তবুও তিনি কীভাবে আমার ওপর দায় চাপালেন, সেটা তাঁকে জিজ্ঞাসা করা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি মোবাইল ফোনে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি আমার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি আমাকে বলেছেন— তিনি চাপের মুখে হঠাৎ করেই এ কথা বলে ফেলেছেন। আমার প্রতি এমন অপবাদ দেওয়ায় আমাকে সরি বলেছেন। তিনি মনে করেছিলেন, এটার দায়িত্ব আইসিটি সেন্টারের পরিচালকের। যাহোক, তিনি আমাকে সরি বলেছেন, এজন্য আমি এ বিষয়ে কথা বাড়াতে চাচ্ছি না।’

জানতে চাইলে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হল ফি জমা দিতে যে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে, তা জানার পর আমি প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহবায়ক ও মন্নুজান হলের প্রভোস্টকে ফোন করি। তিনি আমাকে জানান, গত বছর হল ফি জমার ক্ষেত্রে অটোমেশন পদ্ধতি চালু ছিল, কিন্তু এবার সেটি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধ হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আইসিটি সেন্টারের প্রশাসক অপারগতা প্রকাশ করেছেন। তবে তারা এই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না জানিয়েছেন। তিনি আমাকে বলেন, এই বিষয়টি যেন কাউকে না জানানো হয়।’

আরও পড়ুন: ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদনের সুযোগ শেষ আজ

দায়িত্ব না থেকেও আইসিটি সেন্টারের পরিচালককে নিয়ে পোস্ট করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হল প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহবায়ক আমাকে যে তথ্য জানিয়েছেন, আমি সেটা নিয়েই পোস্ট করেছি। আপনার (সাংবাদিক) মাধ্যমে শুনলাম, এ বিষয়ে আইসিটি সেন্টারের পরিচালক জড়িত নন। তাহলে তিনি কেন আমাকে এই মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে আমি অবশ্যই তাঁকে জিজ্ঞাসা করব।’

প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহবায়ক ও মন্নুজান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আসিয়ারা খাতুন বলেন, ‘গত বছর অটোমেশন পদ্ধতি চালু থাকায় শিক্ষার্থীরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহজেই সব ধরনের ফি জমা দিতে পেরেছিল। তবে চলতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই অটোমেশন পদ্ধতি ব্যবহার বন্ধ রেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘কেন এটি বন্ধ করা হয়েছে, এ বিষয়ে আইসিটি দপ্তরের প্রশাসকের কাছে জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর দেননি। শুধু জানান, দুর্নীতি বন্ধ করার উদ্দেশ্যেই অটোমেশন পদ্ধতি বন্ধ করা হয়েছে।’

আইসিটি সেন্টারের পরিচালকের ওপর দায় চাপানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আইসিটি দপ্তরের প্রশাসককে কল করি এবং অটোমেশন পদ্ধতি কেন বন্ধ রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাই। তিনি আমাকে জানান, তাঁরা নাকি কোনো ধরনের অপারগতা দেখাচ্ছেন না। তখন আমি তাকে বলি, যদি আপনারা অপারগতা না দেখান, তাহলে এভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা আমার জন্য ঠিক হয়নি।’

ঈদযাত্রায় গাজীপুরে ১২ কিলোমিটার থেমে থেমে যানজট
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
একই সময়ে একই মহল্লায় পাওয়া গেল দুই বন্ধুর ঝুলন্ত মরদেহ
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে আত্মিক যাত্রা শুরু করলেন নাসীরুদ্দীন প…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
শেষ হচ্ছে রোজা, সৌদি আরবে ঈদ কবে?
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ গেল ময়মনসিংহের যুবক মাম…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
যুদ্ধে যে কারণে ইরানের পাশে নেই ‘মুসলিম বিশ্ব’
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence