জুলাই ঐক্যের বিক্ষোভ © টিডিসি
জুলাইয়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শক্তির মধ্যে ফাটল তৈরি ও ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবিতে) বিক্ষোভ মিছিল করেছে জুলাই ঐক্য। বৃহস্পতিবার (২২ মে ) রাত সাড়ে দশটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শাহবাগ দিয়ে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে সেখানে বিক্ষোভ-সমাবেশ করে সংগঠনটি।
এসময় আন্দোলনকারীরা ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’;‘দিয়েছি তো রক্ত , আরও দেব রক্ত’; ‘আবু সাঈদের রক্ত , বৃথা যেতে দেব না’;‘দিল্লি না ঢাকা , ঢাকা ঢাকা’; ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’; ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’ ইত্যাদি স্লোগান দেয় ।
সমাবেশে আপ বাংলাদেশের প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ বলেন, যারা জুলাইয়ের রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় বসেছে, তারা জুলাই ঘোষণা পত্র ঘোষনা না করে ক্ষমতা নিয়ে কামড়াকামড়ি শুরু করেছে। দেশ যখন ক্লান্তিলগ্নে ছিল আমরা ইউনূস সরকারের ওপর আস্থা রেখেছিলাম, এখনও রাখছি। তবে উপদেষ্টাদের মধ্যে যারা জুলাইয়ের রক্তের সাথে গাদ্দারি করবে, আমরা তাদের প্রতিহত করতে আবারও রাস্তায় নেমে আসব। দেশের প্রশ্ন যদি কাউকে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি, তবে কাউকে দেশে থাকতে দিব না।
এসময় তিনি ইউনূস সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অতিদ্রুত আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করুন। জনগণের দাবি ‘জুলাই প্রোক্লেমেশন’ ঘোষণা করুন।
জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক সাইদুর রহমান সরকার বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রায় দুই হাজার ভাইয়ের জীবনের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন হয়েছি। কিন্তু একটা গোষ্ঠী এই জুলাই ঐক্যের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। বাংলাদেশর
সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে আমাদের একসাথে হয়ে কাজ করতে হবে। যখনই দেশ যখন হুমকির মধ্যে পড়বে আমরা আবারও জুলাইয়ের মতো রাস্তায় নেমে আসবো।
জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, আমরা অনেক বুক ভরা আশা বেঁধেছিলাম যখন ইন্টেরিম সরকার দেশ পরিচালনায় শুরু করল। তাদের প্রথম দায়িত্ব ছিল আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন করা। কিন্তু তারা আহতদের সুচিকিৎসার না দিয়ে ক্ষমতা উদযাপন শুরু করেছে। উপদেষ্টা পরিষদে ভারতীয় কোনো দালাল থাকতে পারবে না।
তিনি বলেন, ইন্টারিম সরকারে ভারতীয় আধিপত্যবাদের দোসররা আবারও দেশকে ভারতীয়দের কাছে তুলে দিতে চায়।জুলাই যোদ্ধারা বেঁচে থাকতে তা সফল হবে না। এবার রাজপথে নামতে হলে আপনাদের উৎখাত করে দেশ ছাড়া করা হবে। যারা জুলাই ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করুন।
এসময় মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ তিনটি দাবির কথা বলেন। দাবিগুলো হলো-
১. সকল জায়গা থেকে ভারতীয় আধিপত্যবাদ দূর করতে হবেযারা জুলাই ঐক্যকে বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে তাদের চিহ্নিত করে বিচার করতে হবে।
২. আসিফ নজরুল ও আলী ইমাম মজুমদারের পদত্যাগ করতে হবে।
৩. জুলাই প্রোক্লেমেশন ঘোষণা করতে হবে এবং এটাকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।