দুর্ঘটনার পর প্রথমবার শাটল ছাড়বে ২টা ৫০ মিনিটে © সংগৃহীত
শাটল ট্রেনের ছাদে ক্যাম্পাসে ফেরার সময় দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীরা আহত হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বন্ধ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেন। তবে আজ রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৫০ মিনিটের শাটল ট্রেন বটতলী স্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখে ছেড়ে আসবে। এরপর নির্ধারিত শিডিউলে স্বাভাবিকভাবেই চলবে শাটল ট্রেন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন।
সহকারী প্রক্টর মো. মোরশেদুল আলম বলেন, বিকেল থেকে শাটল ট্রেন চলাচল করবে। বেলা দেড়টায় ও আড়াইটায় ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি চলবে না। ক্যাম্পাস থেকে বিকেল ৪টায় চলাচল শুরু হবে। এই দুই সূচিতে কোনো বাস দেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এই সহকারী প্রক্টর বলেন, কোনো বাসের ব্যবস্থা করা হয়নি।
গত বৃহস্পতিবার রাতে শাটল ট্রেনের ছাদে চড়ে যাওয়ার সময় হেলে পড়া একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ২৫ শিক্ষার্থী আহত হন। আহত শিক্ষার্থীদের ১৬ জনকে ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর শাটল না চলায় চট্টগ্রাম নগরী থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াতকারী হাজার হাজার শিক্ষার্থী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জানা গেছে, চবি রুটে নিরাপদবোধ না করায় চবির শাটল ট্রেন চালাবে না লোকোমাস্টাররা।
এর আগে, এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। যদিও ভিসি অধ্যাপক শিরীণ আখতার এ বাসভবনে থাকেন না। তবে, ভিসির বাসভবনের প্রায় প্রত্যেকটি কক্ষে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা। এ সময় ফুলের টব থেকে শুরু করে বিভিন্ন আসবাব, ফ্রিজ, টিভি, এসি, ওয়াশিংমেশিন, কক্ষ, লকার, জানালা ভেঙে ফেলে শিক্ষার্থীরা। পরে আসবাব বের করে বাসভবনের উঠানে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।
এ ছাড়াও বাস, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসসহ ক্যাম্পাসে থাকা প্রায় ৬০টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিবহণ দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. নূরুল আবছার জানান, ভেতরে থাকা সব গাড়িতেই ভাঙচুর চালানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৫০টি বাস ভাঙচুর করা হয়েছে।
রেলওয়ের কর্মচারীদের দেওয়া ছয়টি শর্ত হলো—
১.পাহাড়তলী থেকে প্রতিটি ইঞ্জিন সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশের (জিআরবি) কমপক্ষে চারজন সদস্য দিতে হবে; ২. বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, রেলওয়ে কর্মচারীদের প্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসন মিলে বৈঠক করতে হবে। ওই বৈঠকে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা করতে হবে; ৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা; ৪. ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে শিক্ষার্থী উঠলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হবে; ৫. ছাত্রদের সচেতনতা বাড়াতে শ্রেণিকক্ষে কাউন্সেলিং করতে হবে এবং ৬. গত বৃহস্পতিবার লোকমাস্টারদের লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইটি শাটল ট্রেন প্রতিদিন মোট ১৪ বার চট্টগ্রাম শহর থেকে চবি ক্যাম্পাসে আসা যাওয়া করে। প্রতিটি শাটল ট্রেনে দশটি করে বগি আছে। তবে শিক্ষার্থীর তুলনায় বগি কম হওয়ায় ট্রেনের ছাদে করে আসা যাওয়া করে অনেক শিক্ষার্থী।