অধ্যাপক ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঢাবি ছাত্রলীগের স্মারকলিপি 

০৬ এপ্রিল ২০২৩, ০৭:২২ PM , আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৫, ১১:০৩ AM
অধ্যাপক ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঢাবি ছাত্রলীগের স্মারকলিপি

অধ্যাপক ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঢাবি ছাত্রলীগের স্মারকলিপি © টিডিসি ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তজার্তিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন এমন অভিযোগে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়াসহ দুই দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন এবং সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপিতে উপাচার্যের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদের রচিত বইয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীন বাংলাদেশ তৈরির দীর্ঘ সংগ্রাম, ৭ই মার্চের ভাষণকে অবমূল্যায়ন করা হয় এবং একাত্তরে এদেশে পাকিস্তানিদের দ্বারা সংঘটিত গণহত্যা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এমন বেশ কিছু বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোচরীভূত হয়েছে।

স্মারকলিপি আরও বলা হয়, ড. ইমতিয়াজ আহমেদ তার লেখা বইয়ে (Historicizing ১৯৭১ Genocide: State Versus Person, Dhaka, Janu ary ২০০৯) উল্লেখ করেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একাত্তরের ৭ই মার্চের ভাষণ শেষে 'জয় পাকিস্তান বলেছেন: আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরিচালিত গণহত্যাকে 'গণহত্যা' বলা যাবে না। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের সংখ্যা নিয়েও ড. ইমতিয়াজ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ড. ইমতিয়াজ জাতির পিতার দীর্ঘ সংগ্রাম, ৭ই মার্চের ভাষণ, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের দ্বারা সংঘটিত একাত্তরের গণহত্যা ইত্যাদি নিয়ে বেশ কিছু মিথ্যা ও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত জাতীয় ইতিহাসের বিকৃতি ঘটানো মন্তব্য করেছেন যা একেবারেই ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। যেমন, একাত্তরের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক বক্তৃতার সমাপ্তিতে বঙ্গবন্ধু 'জয় বাংলা'র সাথে 'জয় পাকিস্তান' বলেছেন বলে দাবি করেছেন ড. ইমতিয়াজ । এছাড়াও তখনকার পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের অধিবাসীদের মধ্যে বিয়ে হতো, দুই অংশের মধ্যে সাংস্কৃতিক অনেক মিল ছিল, উর্দুর সঙ্গে বাংলাও পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা ছিল, দুই অংশের অধিবাসীদের মধ্যে নৃতাত্ত্বিকও অনেক মিল ছিল এধরনের উদ্ভট দাবীও তিনি তার বইয়ে করেছেন; কখনো নিজের বরাতে, কখনো অন্যের মুখে শুনেছেন দাবী করে লিখেছেন।

সেখানে আরও বলা হয়, উল্লেখিত বিষয়গুলো মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে চূড়ান্তভাবে মীমাংসিত হয়েছে। জাতির পিতার অবদানকে অবমূল্যায়ন কিংবা স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টাকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের শামিল মনে করে ও তীব্র ধিক্কার জানায় এবং এধরনের অপচেষ্টার পেছনে কোনো গূঢ় ষড়যন্ত্র রয়েছে এমন সন্দেহ পোষনের অবকাশ রয়েছে বলে মনে করে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবীসমূহ নিম্নরূপঃ

১. অনূর্ধ্ব ১৫ দিনের মধ্যে ড. ইমতিয়াজ আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টার কার্যকারণ উদঘাটন ও প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।

২. ড. ইমতিয়াজ আহামেদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সড়ক অবরোধ, ছাত্র-শিক্ষক অনশনসহ কয়েকদিনে যেসব ঘটনা ঘটলো বরিশ…
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
এনসিপির সদস্য হলেন ইবির বৈছাআ'র আহবায়ক সুইট
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
এনসিপিতে যে পদ পেলেন জুনায়েদ-রাফে সালমানরা
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
শেকৃবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
‘সুরভি স্কুল’ পরিদর্শন করলেন মার্কিন বিশেষ দূত, শিশু কল্যাণ…
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
‘সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট’ সংবাদ আমলে নিয়ে গঠন হচ্ছে তদন্ত ক…
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬