হিন্দু ছাত্রকে শিবির ট্যাগ দিয়ে মারধর

রাবির দুই ছাত্রলীগ নেতার ছাত্রত্ব বাতিলসহ ৪ দফা সুপারিশ

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৪:৩৬ PM , আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৪৬ PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় © ফাইল ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাইম ইসলাম ও যুগ্ম সম্পাদক মো. সোলাইমানের বিরুদ্ধে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী কৃষ্ণ রায়কে হলকক্ষে ডেকে শারীরিক নির্যাতনের পর ‘শিবির’ বলে চালিয়ে দেওয়ার হুমকির ঘটনার সত্যতা পাওয়া গছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটি। এসময় অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে ছাত্রত্ব বাতিলসহ ৪ দফা সুপারিশ করেছেন তারা। 

মঙ্গলবার (২৮ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন।

হল প্রাধ্যক্ষ বলেন, আমাদের তদন্ত কমিটিতে থাকা সদস্যরা সকল বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে তদন্ত করেই আমাদের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। হল প্রশাসন এ তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দিবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান তিনি।

এসময় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের এক কপি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের হাতে আসে। এতে তদন্ত কমিটি কৃষ্ণ রায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ৪টি বিষয়ে সুপারিশ করে প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন পাঠান। প্রতিবেদনে ৪দফা সুপারিশ হল: 

১.অভিযুক্ত মো. সোলাইমান ও নাইম আলী (নাইম ইসলাম) উভয়ই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের অনাবাসিক শিক্ষার্থী। তারা দীর্ঘকাল হলে অবস্থান করলেও হলের আবাসিকতার জন্য কখনও আবেদন করেনি। উভয় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও বহু মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি অভিযুক্ত নাইম আলী একাধিকবার হলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের মত ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি অবৈধভাবে হলের সিট দখল, বৈধ শিক্ষার্থীকে হল ত্যাগে বাধ্য করা, হলের সিট বরাদ্দের জন্য সাক্ষাৎকার গ্রহণে বাধা দেওয়াসহ নানা অনৈতিক কাজে সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া তিনি একাধিকবার হলের আবাসিক শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি, অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এমনকি প্রাধ্যক্ষকে দেখে নেব বলে বহুবার হুমকি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ঢাবিতে এক বছরে ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার সাংবাদিকসহ ২৭ শিক্ষার্থী

২.তদন্ত কমিটি মনে করে কৃষ্ণ রায়ের ঘটনাটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ কালের সুনাম ও ঐতিহ্যকে ক্ষুন্ন করেছে। তাই কোনোভাবেই যাতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরও কঠোর ও যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। একইভাবে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুপারিশ করছি আমরা। তা না হলে এমন আরও অনেক দুঃখজনক ঘটনা ঘটবে। 

৩. অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জড়িতদের সঠিকভাবে উদঘাটন করা যায়নি ফলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা গেল না।

৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি শৃঙ্খলা, সুনাম ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে অনাবাসিক এই দুই শিক্ষার্থীকে আর কখনো হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে আবাসিকতা প্রদান না করার সুপারিশ করছি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য এই তদন্ত কমিটি জোর সুপারিশ করছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ৩৮৩ নম্বর কক্ষে কৃষ্ণ রায়কে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাইম আলী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সোলাইমানের বিরুদ্ধে। 

এ ঘটনায় কৃষ্ণ রায় ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হল প্রাধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে হল প্রশাসন।

ভোলায় হাতপাখার নারী কর্মীদের ওপর জামায়াত কর্মীদের হামলা, আহ…
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
নির্বাচিত হলে কওমী মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করা হ…
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত শতাধিক
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
ভোটাধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতির আহ্বান হাবিবের
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
তারেক রহমানের পাশে বসা নিয়ে ট্রল, ব্যাখ্য দিলেন ছাত্রদলের র…
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
diuimage