সকল শিক্ষার্থীর মূল্যবোধকে ধারণ করবে শেখ কামাল-সুলতানা কামাল ট্রাস্ট © টিডিসি ফটো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেছেন, শেখ কামাল এবং সুলতানা কামালের স্মৃতিতে ট্রাস্ট ফান্ডের উদ্দেশ্য শুধু বৃত্তি প্রদান করাই নয় বরং শেখ কামাল-সুলতানা কামালের জীবনের মূল্যবোধগুলোও তুলে ধরা। তাঁরা সবসময়ই পাঠ্য বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। শেখ কামালই প্রথম শিক্ষার্থী, যিনি মেধাবীদের জন্য একটা সংঘ তৈরি করেছিলেন, যেখানে প্রত্যেক বিভাগের মেধাতালিকার প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করা শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি ছিলো।
বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) ঢাবির মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড মো আখতারুজ্জামানের হাতে চেক হস্তান্তরের মধ্যমে ঢাবিতে শেখ কামাল-সুলতানা কামাল ট্রাস্ট ফান্ড গঠন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান।
উপাচার্য বলেন, তিনি দল মত নির্বিশেষে এই মূল্যবোধ নিয়ে কাজ করেছেন। আজকের এই ট্রাস্ট ফান্ড সেই মূল্যবোধকে ধারণ করবে বলে আমার বিশ্বাস। আমরা দুটো বিষয়কে বিবেচনায় রেখেছি। প্রথমটি হলো, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ভালো করা শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা প্রদান। দ্বিতীয়টি হলো, ভালো শিক্ষার্থীদের, মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই ফান্ড সুবিধা দেয়া।
এ দিন জনতা ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৪০ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর করার মাধ্যমে ফান্ডের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যক্তি বা সংগঠনের প্রদত্ত আর্থিক সহায়তায় এই ট্রাস্ট ফান্ড পরিচালিত হবে।
অনুষ্ঠানে সুলতানা কামালের ছোট ভাই গোলাম আহমেদ টিটু বলেন, শেখ কামাল কৃতি খেলোয়াড় ছিলেন। আন্তঃস্কুল আন্তঃকলেজ খেলাধুলার কারণে স্কুল থেকেই সুলতানা কামালের সাথে শেখ কামালের সাথে পরিচয় ছিলো। আমার বোন সুলতানা আহমেদ খুকিও একজন খেলোয়াড় ছিলেন। ১৯৬৮ থেকে পরবর্তী চার বছর তিনি খেলাধুলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন।
শেখ পরিবারের জ্যৈষ্ঠ সদস্য ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন বলেন, আমি মনে করি, আজকের এই মহতী উদ্যোগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে ইতিহাসে। আমার মা মারা গেছেন জন্মের পরপরই। এজন্য আমি লালিত পালিত হয়েছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কাছে।
শেখ কামাল সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি খুব হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। বড়দের সম্মান, ছোটদের স্নেহ করতেন। আমাকে সবসময় চাচা বলে ডাকতেন। তিনি একটা গান গাইতেন, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা সবই করতেন তিনি। এতো বিনয়ী ছিলেন, তাঁর আগ দিয়ে কেউ কখনো সালাম দিতে পারতো না।
আর ঢাবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকের এ ট্রাস্ট ফান্ডের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠান আর দশটা ট্রাস্ট ফান্ডের মতো নয়। আজকের এই চেক হস্তান্তরের সাথে জড়িয়ে আছে শেখ কামাল- সুলতানা কামালের নাম।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ কামাল দিল্লিতে যান। ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে বলেছিলেন, দিল্লিতে পড়াশোনা করতে। কিন্তু তিনি দ্বিমত জানিয়ে ফিরে আসেন এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। দেশ স্বাধীন হবার পর তিনি আর্মি ছেড়ে শিক্ষাজীবনে ফিরে আসেন।
অধ্যাপক জিয়া রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি নিজামুল হক ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক জিনাত হুদা, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন মিহির লাল সাহা প্রমুখ।