রাকসুর ভোট চাইতে গিয়ে মন দেওয়া-নেওয়া, ইমন-মুসলিমা এখন জীবনসঙ্গী

২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৮ PM
রিদুয়ানুল হক ইমন ও মুসলিমা

রিদুয়ানুল হক ইমন ও মুসলিমা © সংগৃহীত

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন। সে নির্বাচনে ছাত্র অধিকার পরিষদ মনোনীত প্যানেল থেকে সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক পদে নির্বাচন করেন রিদুয়ানুল হক ইমন। নির্বাচনী প্রচারণা করতে গিয়ে তার পরিচয় হয় মুসলিমার সঙ্গে। এরপর বন্ধুত্ব, ভালো লাগা—শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্ক গড়ায় বিবাহবন্ধনে।

ইমন রাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের ভোটে জয়ী হতে পারেননি, তবে ভালোবাসার যুদ্ধে তিনি সফল। রাকসুকে কেন্দ্র করে প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে পরিচয় হয় মুসলিমার সঙ্গে, আর সে পরিচয়ই ধীরে ধীরে রূপ নেয় সম্পর্কে। রাকসুকে ঘিরে শুরু হওয়া সে পথচলাই শেষ পর্যন্ত তাকে এনে দিয়েছে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক সিদ্ধান্তে, মুসলিমাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া। 

জীবনে সব জয় এক জায়গায় সীমাবদ্ধ নয়; কখনো কখনো পরাজয়ের ভেতর দিয়েই বিজয়ী হওয়া যায়। সে অর্থে, জীবনে হেরেও জেতা যায়, আর তারই একটি উদাহরণ ইমন। চার মাসের প্রেমের পরিণতি হিসেবে গত ৭ এপ্রিল উভয় পরিবারের সম্মতিতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করেন তারা।

জানা গেছে, ইমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ। অন্যদিকে মুসলিমা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি বাগেরহাটে।

প্রেমের শুরুর বিষয়ে জানতে চাইলে ইমন বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিনে আমি মমতাজ উদ্দীন কলাভবনের সামনে প্রচারণা করতে যাই। তখন প্রথম দেখাতেই তাকে ভালো লাগে। তার সঙ্গে থাকা বান্ধবীদের মধ্যে একজনকে আমি চিনতাম। কিছুদিন পর সে আমাকে ফেসবুকে রিকোয়েস্ট পাঠায়।’

‘এরপর আমি তাকে মেসেজ দিই এবং টুকটাক কথা হয়। কিছুদিন পর জানতে পারি, সে শহরের তালাইমারি এলাকায় থাকে। এরপর তাকে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানাই। এভাবে কয়েকদিন একসঙ্গে চা খাওয়া ও আড্ডার মাধ্যমে আমাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে’, যোগ করেন তিনি।

পারিবারিকভাবে বিষয়টি কীভাবে জানাজানি হয়—জানতে চাইলে ইমন বলেন, ‘একবার সে অসুস্থ হলে আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে তার ভাই আমাকে কল দেন। সেখান থেকেই তার ভাইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়।’

আরও পড়ুন: বিএনপির এমপি হচ্ছেন ‘মায়ের ডাক’র তুলি

তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল পরে বিয়ে করার। কিন্তু বিষয়টি পরিবারে জানাজানি হলে রাজশাহীতে উভয় পরিবারের সদস্যরা এসে কথা বলেন। এরপর ৭ এপ্রিল বিনোদপুর কাজী অফিসে আমাদের বিয়ে হয়। পরে বিয়ের অনুষ্ঠান করে ১৭ এপ্রিল সবাইকে জানানো হয়।’

পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা ছিল কি না—এমন প্রশ্নে ইমন জানান, ‘শুরুর দিকে পরিবার রাজি ছিল না। আমরা এখনো শিক্ষার্থী হওয়ায় সবাই চাইছিল পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে হোক। কিন্তু আমরা দুজনই নিজেদের পরিবারকে বুঝিয়ে রাজি করাই। পরে উভয় পরিবার সম্মতি দেয়।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ইমন বলেন, তারা একসঙ্গে ভালো কিছু করতে চান। পড়াশোনা শেষ করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চান এবং দেশে বা বিদেশে ভালো চাকরি করার ইচ্ছা রয়েছে তাদের।

মুসলিমা বলেন, ‘সবকিছু যেন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হয়ে গেল, কিন্তু অনুভূতিটা খুবই আন্তরিক ও গভীর। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর ধীরে ধীরে ভালো লাগা; সব মিলিয়ে ইমনকে জীবনের সঙ্গী হিসেবে পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। পরিবারের সম্মতিতে বিয়েটা হওয়ায় আমরা আরও স্বস্তি পেয়েছি। এখন আমাদের লক্ষ্য পড়াশোনা শেষ করে একসঙ্গে ভালো কিছু করা এবং সুন্দরভাবে জীবনটা গুছিয়ে নেওয়া।’

কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও বৈশাখী ভাতা নিয়ে যা জানা …
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে কুয়াকাটায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঢল, পুণ…
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রজেক্ট অফিসার নিয়োগ দেবে জার্মান রেড ক্রস, আবেদন শেষ ২৯ এ…
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
সাইবার নজরদারিতে হবে প্রশ্নফাঁস শনাক্ত: শিক্ষামন্ত্রী
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
মাভাবিপ্রবির ছাত্রী হল থেকে জব্দ করা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ফেরত
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
এসএসসির প্রশ্নে দুর্বোধ্যতা থাকলে সাহায্য করবেন পরীক্ষকরা
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬