ইউজিসি চেয়ারম্যান
ইবির সেন্ট্রাল ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ © টিডিসি ফটো
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার প্ল্যান করছি। তার মানে হচ্ছে, তুমি তোমার শিক্ষা জীবনের একটা নির্দিষ্ট অংশ—সেটা দুই মাস হতে পারে, তিন মাস হতে পারে, চার মাস হতে পারে, সেটা আমরা ডিফাইন করবো—সেটি তুমি ইন্ডাস্ট্রিতে সময় কাটাবে, হাতে কলমে শিখবে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘যখন আমরা ইন্ডাস্ট্রি বলছি, যেকোনো ধরণের ইন্ডাস্ট্রি হতে পারে; সেটা প্রোডাকশন ইন্ডাস্ট্রি হতে পারে, সেটা সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি হতে পারে, সরকারি অফিস হতে পারে, বেসরকারি অফিস হতে পারে। ছাত্র থাকাকালীন সময়েই তুমি ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাবে যেকোনো প্রতিষ্ঠানে। এই সুযোগটা আমরা ম্যান্ডেটরি করব এবং সেই সময় নিশ্চিতভাবে শিক্ষার্থীরা পেমেন্টের আওতায় আসবে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষে (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) ভর্তিকৃত নবীন শিক্ষার্থীদের সেন্ট্রাল ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সনদ অর্জনের জায়গা নয়; একই সাথে দক্ষতা অর্জন করতে হয়। এ দক্ষতা দিয়ে শিক্ষার্থীরা যখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হবে, তখন প্রয়োজন এবং চাহিদা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করার সুযোগ পাবে।’
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জীবন যেন সুখকর হয়, ক্যাম্পাসে নিরাপদ হয় সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থী যাতে সফট স্কিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হতে পারে, তা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকের ডিজিটাল লিটারেসি থাকতে হবে, কমিউনিকেশন স্কিল থাকতে হবে- যাতে শিক্ষার্থীরা বাংলা, ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষায় নিজ দেশে এবং দেশের বাইরে মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। নিজের মতো করে সমস্যার সমাধানের জন্য ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ের যোগ্যতা অর্জন করে।’
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সরকার সবসময় সমতায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘অসমতা বা বৈষম্যর বিষয়টি তরুণদের মধ্যে আরেকবার জাগ্রত না হয়, আরেকবার যাতে তাদেরকে সমান সুবিধার জন্য কখনো রক্ত ঝরাতে না হয়, আমরা সে বিষয়ে সচেতন আছি।’
আরও খবর: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও শ্রেণিকক্ষ মূল্যায়ন ব্যবস্থা জরুরি
তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন করব, তখন যেকোনো শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং গবেষক কুষ্টিয়াতে বসে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ২৪ ঘণ্টা কানেক্টেড থাকতে পারবে। প্রান্তিক বিশ্ববিদ্যালয় বলতে কোন বিশ্ববিদ্যালয় এই দেশে থাকবে না। চার অথবা পাঁচ বছর পর শিক্ষার্থীরা যখন এখান থেকে পাশ করে বের হবে, তারা হবে এ দেশের সবচাইতে দক্ষ, কম্পিটেন্ট গ্র্যাজুয়েট।’
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, ইবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী এবং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্ক অ্যাসোসিয়শনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম শাহ।
ওরিয়েন্টেশন বক্তা ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল।