চীনে মাস্টার্স-পিএইচডি ভর্তির সুযোগ পাবেন ১০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

২৮ জুন ২০২৬, ০৩:৪৯ PM
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন © টিডিসি সম্পাদিত

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষক উন্নয়ন, বৃত্তি কর্মসূচি, একাডেমিক বিনিময় এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং চীনের তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় আগামী কয়েক বছরে প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে ভর্তির সুযোগ প্রদানের বিষয়ে তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্মত হয়েছে। 

রবিবার (২৮ জুন) চীনের তিয়ানজিনে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সফরকালে এ সমঝোতা সই হয়। প্রতিনিধি দলে ইউজিসির পরিচালক ড. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সমঝোতায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মিং দং। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের ডিন অধ্যাপক লিকিয়াং উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার বিস্তার, গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে কার্যকর অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত সহযোগিতা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ ইউজিসি ও তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ অর্থায়ন কাঠামোর আওতায় মাস্টার্স ও ডক্টর অব ফিলোসফি (পিএইচডি) পর্যায়ে যৌথ কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, প্রকৌশল, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, মানবিক এবং অন্যান্য অগ্রাধিকারভিত্তিক বিষয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক ও গবেষকদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এ ধরনের যৌথ কর্মসূচি শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণা দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক নেটওয়ার্ক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চীনা ভাষা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যান বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট ও কনফুসিয়াস ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীন সরকারের সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়ার আলোকে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি ভাষা হিসেবে চীনা ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ জানান, ইউজিসি দেশের প্রায় ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা করছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে দক্ষ চীনা ভাষার শিক্ষক, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি। তাঁর মতে, চীনা ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারিত হলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বাংলাদেশে যৌথ গবেষণাগার স্থাপনেরও প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করা হলে পারস্পরিক আগ্রহের বিষয়গুলোতে গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং সক্ষমতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে। এসব গবেষণাগার বাংলাদেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।

তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মিং দং বাংলাদেশের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়টির দৃঢ় আগ্রহের কথা জানান। বৈঠকে দুই পক্ষ স্নাতকোত্তর শিক্ষা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা, একাডেমিক মোবিলিটি এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করে।

আরও পড়ুন: ছাত্রদল নেতার অনুসারী অবৈধভাবে হলে, প্রতিবাদ করায় ছাত্রশক্তির দুই নেতাকে মারধর

তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের ডিন অধ্যাপক লিকিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক উৎকর্ষ, আন্তর্জাতিক সাফল্য এবং বৈশ্বিক অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ৭০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন। ভবিষ্যতে আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে সেখানে স্বাগত জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়টি আগ্রহী।

স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে স্নাতকোত্তর শিক্ষা, যৌথ গবেষণা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণাগার স্থাপন, চীনা ভাষা শিক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অংশীদারত্ব বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণার উৎকর্ষ এবং উদ্ভাবন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের পরপরই এ উচ্চপর্যায়ের সফর ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান গতিশীলতাকে প্রতিফলিত করছে। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মানুষে-মানুষে যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সফরের শেষে ইউজিসি ও তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়নে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে যে, এই কৌশলগত অংশীদারত্ব বাংলাদেশ ও চীনের উচ্চশিক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার অগ্রগতিতে অর্থবহ অবদান রাখবে।

সাপে কাটার পর ওঝার কাছে নিয়ে সময় নষ্ট, বাঁচানো গেল না রাকিব…
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
মেসি-ইয়ামাল নয়, ফাইনালে জয় শুধু লা মাসিয়ার
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
পাবনায় আওয়ামী লীগ নেতার গলাকাটা লাশ উদ্ধার
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব: আরাগচি 
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
৩ বন্ধুর ডুব দিয়ে পুকুর ঘাট পেরোনোর প্রতিযোগিতা, দম ফুরিয়ে …
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
বন্ধুদের সঙ্গে ভাসমান পেয়ারা বাজারে ঘুরতে গিয়ে ডুবল কিশোর, …
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence