‘নেতিবাচক ধারণা দূর করতে গবেষণা প্রস্তাব মূল্যায়নে বড় পরিবর্তন এনেছে ইউজিসি’

০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৩ PM , আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪১ PM
কর্মশালায় বক্তব্য দিচ্ছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ

কর্মশালায় বক্তব্য দিচ্ছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ © সংগৃহীত

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমে বলেছেন, হিট প্রকল্পের প্রথম ধাপে উপ-প্রকল্প নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে কিছু নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। যদিও ওই ধারণার সঙ্গে বাস্তবতার যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে, তবু গবেষক ও শিক্ষক সমাজে উপ-প্রকল্প নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হোক—ইউজিসি তা চায় না। এ কারণেই দ্বিতীয় ধাপের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমিতে হিট প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ‘উপ-প্রকল্প মূল্যায়ন পরিচিতি’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা প্রকৃত গবেষকদের খুঁজে বের করতে চাই। প্রকল্প নির্বাচনে ব্যক্তিগত পরিচয় নয়, গবেষণার গুণগত মান, নতুনত্ব এবং সম্ভাব্য প্রভাবই হবে মূল বিবেচ্য।’

তিনি জানান, গবেষণা প্রস্তাব মূল্যায়নের জন্য তিনটি উৎস থেকে সম্ভাব্য রিভিউয়ারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আবেদনকারীদের প্রস্তাবিত বিশেষজ্ঞ, গুগল ফর্মের মাধ্যমে আগ্রহ প্রকাশকারী গবেষক এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্রাথমিক রিভিউয়ার প্যানেল গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি সংশ্লিষ্ট গবেষকদের প্রকাশনা, গবেষণা অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা যাচাই করে চূড়ান্ত প্যানেল নির্ধারণ করেছে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, প্রতিটি গবেষণা প্রস্তাবকে একটি স্বতন্ত্র কোড দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য ছয় থেকে আটজন সম্ভাব্য রিভিউয়ার রাখা হলেও লটারির মাধ্যমে তাদের মধ্য থেকে দুজনকে চূড়ান্ত রিভিউয়ার হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। মূল্যায়নের নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো রিভিউয়ার জানতে পারবেন না কোন গবেষণা প্রস্তাব তার কাছে যাচ্ছে। 

‘এর মাধ্যমে আমরা মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে যতটা সম্ভব বাহ্যিক প্রভাব, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও পক্ষপাত থেকে মুক্ত রাখতে চাই,’ বলেন অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, গবেষণা সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে শুধু গবেষণায় অর্থায়ন বাড়ালেই হবে না; অর্থায়নের ক্ষেত্রে যোগ্যতা নির্ধারণ ও প্রস্তাব মূল্যায়নের প্রক্রিয়াকেও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হবে। গবেষকদের আস্থা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিবেশ তৈরিতে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়ন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও জানান, গত বছর অর্থায়ন পাওয়া ১৮০টি গবেষণা প্রকল্প নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থের অনুপযুক্ত ব্যবহার কিংবা নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার প্রমাণ পাওয়া গেলে অর্থায়ন বন্ধ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যানের মতে, হিট ও আইসিএসটিইপি প্রকল্পের গবেষণা তহবিল যথাযথ, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলকভাবে ব্যবহার করা গেলে দেশের গবেষণা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা দূর করে একটি শক্তিশালী ও আস্থাভিত্তিক গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

কর্মশালায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী এবং হিট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. আসাদুজ্জামানসহ ইউজিসি ও হিট প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনি কি ভিসি-প্রোভিসির চেয়েও বড়?—কর্মীকে সিট না দেওয়ায় প্…
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
বাবা স্বপ্ন দেখতেন বিসিএস ক্যাডার হবো, এখন অনেক বিসিএস ক্যা…
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য স্টেট ইউনিভার্সিটির ১৭ শিক্ষককে …
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে চাকরি, আবেদন ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
মেসির অবসরের পর যা বলল আর্জেন্টিনা ফুটবল
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
সুফল পাবেন ৩৩ লাখ, সরকারের যাবে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬