মায়ের কোলে সন্তান © সংগৃহীত
সন্তানকে শাসন করা অভিভাবকত্বেরই একটি অংশ। কিন্তু ভুল সময়ে বা ভুল পরিস্থিতিতে বকাঝকা করলে তা শিশুর মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস ও অভিভাবকের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শিশুকে শাসন করার ক্ষেত্রে উপযুক্ত সময় ও পরিস্থিতির দিকে খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এমন কিছু সংবেদনশীল সময় রয়েছে যখন শিশুকে বকাঝকা করা একদমই উচিত নয়।
১. খাওয়ার সময়
খাওয়ার সময় শিশুকে বকাঝকা করলে খাবারের প্রতি তার অনীহা বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে। অনেক সময় শিশু খাবারের সময়টিকে বকাঝকা বা শাস্তির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে শুরু করে। ফলে খাওয়াদাওয়া নিয়ে তার মধ্যে অস্বস্তি বা উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। তাই শিশুকে খাওয়ানোর সময় বকাঝকা না করে ধৈর্য ধরুন এবং খাবারের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে সাহায্য করুন।
২. পড়ার সময়
আপনার শিশু যখন পড়ছে, তখন তার মস্তিষ্ক শেখা ও তথ্য বোঝার কাজে ব্যস্ত থাকে। এ সময় বকাঝকা করলে তার মনোযোগ নষ্ট হতে পারে এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে। মনোবিজ্ঞানে পড়াশোনার সঙ্গে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়ে যাওয়াকে লার্নিং অ্যাভারশন বলা হয়। এতে পড়াশোনা আনন্দের বদলে ভয়ের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। তাই আপনি যদি চান, আপনার শিশু ভালোভাবে পড়াশোনা করুক, তাহলে পড়ার সময় বকাঝকা না করে শেখার প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে সাহায্য করুন।
৩. ঘুমানোর আগে
ঘুমানোর আগে শিশুকে বকাঝকা করা বা কটু কথা বলা তার মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দিনের শেষে অভিভাবকের কাছ থেকে অপমানজনক কথা শুনলে শিশু মন খারাপ নিয়ে ঘুমাতে যেতে পারে। বারবার এমন অভিজ্ঞতা হলে তার আত্মসম্মান ও মানসিক সুস্থতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ঘুমানোর আগে শিশুকে বকাঝকা না করে তার সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলুন এবং তাকে মানসিকভাবে স্বস্তিতে রাখার চেষ্টা করুন।
আরও পড়ুন: বিষণ্নতা কমাতে খাদ্যতালিকায় আনুন যে পরিবর্তন
৪. অন্যের সামনে বকাঝকা করা
আপনার শিশুকে কখনোই অন্যের সামনে অপমান বা বকাঝকা করবেন না। অন্যের সামনে বকলে করলে শিশুর আত্মসম্মানে আঘাত লাগতে পারে। ফলে সে অন্যদের সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করতে পারে এবং সামাজিক পরিস্থিতিতে অস্বস্তি অনুভব করতে পারে। দীর্ঘদিন এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেলে তার আত্মবিশ্বাসেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই শিশুর কোনো ভুল হলে অন্যের সামনে অপমান না করে আলাদাভাবে বুঝিয়ে বলুন।
৫. শিশুর আবেগতাড়িত অবস্থায়
শিশু কাঁদছে বা রেগে আছে এমন অবস্থায় বকাঝকা করবেন না। কারণ এসময় শিশুর মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণ যে কেন্দ্রটি আছে তা অধিক সক্রিয় থাকে। আর মস্তিষ্কের যুক্তি ও শেখার অংশটি তুলনামূলক নিষ্ক্রিয় থাকে। এই অবস্থায় আপনি যদি শিশুকে অনেক বেশি বকাঝকা করেন তাহলে সে যুক্তি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করবে না বা শিখতে চাইবে না। বরং তার মধ্যে একধরণের ফাইটিং মুড সৃষ্টি হবে। সে তো আপনার কথা মানবেই না বরং মনে মনে আপনার এবং তার মধ্যে একটি দূরত্ব সে সৃষ্টি করে ফেলবে।
তাই এই পাঁচ পরিস্থিতিতে শিশুকে বকাঝকা করার পরিবর্তে ধৈর্য ও সহানুভূতির সঙ্গে তার ভুল শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে শিশুর আত্মবিশ্বাস বজায় থাকবে এবং সে সুস্থভাবে নিজের আবেগ প্রকাশ ও নিয়ন্ত্রণ করতে শিখবে।