যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলবাস © রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস’র স্কুলগুলোয় শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন অতিরিক্ত সময় (অতিরিক্ত) থাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশ নিয়ে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফাইড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার স্কুল বোর্ডের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ প্রস্তাব পাস হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ স্কুল জেলাটি শ্রেণিভিত্তিকভাবে স্ক্রিন ব্যবহারের সময় নির্ধারণে দেশের প্রথম দিকের উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য হলো, শিক্ষায় প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা ও অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাবের মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করা। বোর্ড সদস্য নিক মেলভয়েন জানান, ২০২৪ সালে চালু হওয়া মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞার ধারাবাহিকতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশব্যাপী একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে স্থূলতা, উদ্বেগ, বিষণ্নতা, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং সামাজিক দক্ষতা হ্রাসের মতো বিভিন্ন সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স-এর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে থাকার ফলে শিশুদের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, আবেগ নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা এবং একাডেমিক পারফরম্যান্সও কমে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ শুরুর আগেই স্বপ্নভঙ্গ একঝাঁক তারকার
গবেষণায় দেখা গেছে, ৮ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমার বেশি স্ক্রিন ব্যবহারে স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে এবং তাদের শেখার দক্ষতাও কমে যায়। তবে এ সিদ্ধান্তের ফলে এখনই কোনো ডিভাইস নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না। বরং শিক্ষক, অভিভাবক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে বয়সভিত্তিক নির্দেশিকা তৈরি করা হবে।
সে পর্যন্ত আগের নিয়মই বহাল থাকবে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের মতে যেসব শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর নির্ভরশীল তাদের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এই নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে।