এআই তারকার খ্যাতি: বাস্তব নয়, তবু ভাইরাল নিয়া নোয়ার © সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন এক নাম—নিয়া নোয়ার। অনেকেই তাকে ‘অতি আবেদনময়ী’ কিংবা ‘বিশ্বের সেরা সুন্দরী’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। নাচের ভিডিও, ভ্রমণের ছবি আর সেলফিতে ভরা নিয়া নোয়ারের প্রোফাইল সাম্প্রতিক সময়ে টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। টিকটকে তার ফলোয়ার সংখ্যা ইতোমধ্যে ২৭ লাখ ছাড়িয়েছে।
নিয়ার প্রায় প্রতিটি পোস্টেই দেখা যায় বিপুল সাড়া। ভিডিও বা ছবির নিচে জমা পড়ে লাখো রিঅ্যাকশন ও মন্তব্য। ফলোয়ারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন নিয়া নিজেই—মন্তব্যের জবাব দেন, রিঅ্যাকশন দেন, ফলে তার কনটেন্টে এনগেজমেন্ট আরও বাড়তে থাকে। এই সক্রিয় উপস্থিতিই তাকে অল্প সময়ের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শীর্ষ আলোচনায় তুলে এনেছে।
তবে এত জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও নিয়া নোয়ার সম্পর্কে একটি অদ্ভুত বিষয় দীর্ঘদিন ধরেই চোখে পড়ছিল। তার জন্মস্থান, পড়াশোনা, পারিবারিক পরিচয়, পেশাজীবন, জাতীয়তা—এমনকি উচ্চতা সম্পর্কেও কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। সাধারণত কোনো তারকার ক্ষেত্রে এসব তথ্য সহজেই জানা গেলেও নিয়ার ক্ষেত্রে ছিল একেবারেই ভিন্ন চিত্র।
সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে চাঞ্চল্যকর সত্য। জানা গেছে, নিয়া নোয়ার কোনো বাস্তব মানুষ নন। আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তাকে তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ নিয়া একজন সম্পূর্ণ কৃত্রিম চরিত্র, যাকে বাস্তব মানুষের মতোই ডিজাইন করা হয়েছে—চেহারা, অভিব্যক্তি, চলন-বলন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আচরণ পর্যন্ত।
আরও জানা যায়, নিয়া নোয়ার নামের এই এআই চরিত্রের পেছনে ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠান সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তারা নিয়া নোয়ারকে ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট, ব্র্যান্ড এনগেজমেন্টসহ নানা মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আয় করছে। বাস্তব মানুষ না হয়েও নিয়া যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, সেটিই এখন এআই যুগের নতুন বাস্তবতা হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
এই তথ্য প্রকাশের পর নিয়া নোয়ারকে ঘিরে আগ্রহ কমেনি, বরং উল্টো বেড়েছে। অনেকেই কৌতূহলবশত নতুন করে তাকে ফলো করছেন। কেউ বিস্মিত, কেউ আবার এআই প্রযুক্তির এই সক্ষমতা দেখে মুগ্ধ। বাস্তব নয় জেনেও যে একটি কৃত্রিম চরিত্র লাখো মানুষের মনোযোগ কাড়তে পারে—নিয়া নোয়ার তারই এক বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।