কথা বলছেন শিক্ষামন্ত্রী © সংগৃহীত
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, টেকনিক্যাল এডুকেশনে বিশ্বের অন্যান্য জাতির সঙ্গে আমাদের তুলনা করা উচিত। তারা কীভাবে এগিয়েছে।
‘‘ইঞ্জিনিয়ারিং এডুকেশন আর টেকনিক্যাল এডুকেশন এক না। তুমি গুলিয়ে ফেলেছো। তুমি ভাবছে তুমি ইঞ্জিনিয়ার, আমি কথা বলছি টেকনিক্যাল এডুকেশন নিয়ে।’’
আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থীর বক্তব্যের প্রতিউত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি ডিপ্লোমা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছি। তখন শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ওই যে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং। আবার ডিপ্লোমা। তখন ওই শিক্ষার্থী বলেন, আমার কোর্সের নাম টেকনোলজি। আমি সিভিল টেকনোলজিতে পড়াশোনা করছি। আপনি যে কথাটি একটু আগে বলেছেন যে, আমরা আসলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার।
শিক্ষামন্ত্রী তখন বলেন, ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ার। আর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার—এই দুই টার্মকে তুমি গুলিয়ে ফেলিও না। আমার কাজ হচ্ছে টেকনিক্যাল, টেকনিক্যাল, টেকনিক্যাল; ভোকেশনাল, ভোকেশনাল, ভোকেশনাল। তুমি কি জানো, সিঙ্গাপুরে ভোকেশনাল ইউনিভার্সিটি আছে? সেই ভোকেশনাল ইউনিভার্সিটি ভর্তিতে কোনো একাডেমিক যোগ্যতা লাগে না। আমি সেখানে গিয়েছি।
এরপর ওই শিক্ষার্থী বলেন, অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ভারত এবং পাকিস্তান ছাড়া ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং সেভাবে পরিচিত না কোথাও। সেখানে ভোকেশনাল এডুকেশনের দিকে ফোকাস দেওয়া। বাংলাদেশে যেহেতু এটা যুগের যুগ ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। সেক্ষেত্রে ব্যাচেলর এডুকেশনে যদি দেখি ইঞ্জিনিয়ারিং, সেখানে প্র্যাকটিক্যালের যে ডিফারেন্সটা। আপনি একটু আগে একটা জিনিস বললেন যে, আমাদের পলিটেকনিকগুলোতে থিওরি বেশি পড়ানো হচ্ছে। তবে আমাদের কোর্স কারিকুলাম স্ট্রাকচারে ৫৯% প্র্যাক্টিকাল।
শিক্ষামন্ত্রী তখন বলেন, আমি দেখেছি তো। আর তোমাদের ল্যাবেও ঢুকেছি। কাজির গরু কেতাবে আছে, খাতায় আছে গোয়ালে নেই।
পরে ওই শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আপনার সহায়তা চাচ্ছি। আমাদের যে পড়াশোনার ইমপ্লিমেন্টেশনটা- এটায় যদি আপনি সুনজর দেন। তাহলে আমার মনে হয়, আমরা শিক্ষার্থীরা আরো ভালো ও কোয়ালিটিফুল কিছু আশা করতে পারি।
শিক্ষামন্ত্রী তখন বলেন, তোমাদের দাবি হওয়া দরকার যে পলিটিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো আমরা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বানিয়ে ফেলি। নতুনভাবে টেকনিক্যাল স্কুল করেন। কারণ দুইটা (ইঞ্জিনিয়ারিং আর টেকনিক্যাল) একসাথে হয় না।