দুর্নীতির অভিযোগ
ম্যাটস প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ © টিডিসি
নোয়াখালী মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) প্রশাসনিক কর্মকর্তার শূন্য পদে বদলি হয়ে আসা মো. কামরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির যোগদান ঠেকাতে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন নোয়াখালী মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) শিক্ষার্থীরা। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে বদলি হয়ে আসা মো. কামরুল ইসলামের যোগদানপত্র গ্রহণ করেননি কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১০ জুন) বেলা ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ম্যাটস প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনে তৃতীয় দিনের মতো ক্লাস বর্জন করে ওই কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানায়, গত ৩ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে কুমিল্লা মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসানকে নোয়াখালী ম্যাটসে বদলি করা হয়। ওই কর্মকর্তা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নোয়াখালীতে কর্মরত ছিলেন। তখন নানা দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িত থাকার কারণে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলে বদলি করা হয়। কিন্তু নোয়াখালী ম্যাটসের স্থগিত হয়ে থাকা একটি নিয়োগকে সামনে রেখে তিনি আবার এই প্রতিষ্ঠানে বদলি হয়ে এসেছেন, যা সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেনে নেবেন না।
এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামরুল হাসানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থকেন। তারা বিগত সরকারের দোসর আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল, প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এর আগে গত সোমবার (৭ জুন) শিক্ষার্থীরা ম্যাটসের অধ্যক্ষ ডা. শায়লা সুলতানা ঝুমার সঙ্গে দেখা করেন এবং দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামরুল হাসানের বদলি হয়ে আসা যোগদান করতে না দেওয়ার অনুরোধ করেন। বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ম্যাটস শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত সাব্বির, মাহবুব আলম শান্ত, কাজী আবদুল্লাহ আল আফিফ ও হাফিজ আলী, আরাফাত হোসেনসহ অনেকে।
ম্যাটস নোয়াখলীর অধ্যক্ষ শায়লা সুলতানা ঝুমা মুঠোফোনে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, কামরুল হাসানের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত ৩ দিন ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া গতকাল বেলা ১১টার দিকে কামরুল হাসান দলবল নিয়ে তার পদে যোগদান করতে আসেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা লোকজন তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এতে তিনি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। তিনি তাদের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং ড্যাবের মতামতের বিষয়টিও অবহিত করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে যোগদান আপাতত স্থগিত রেখেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, তাকে অন্যায়ভাবে যোগদান করতে দেওয়া হয়নি। তবে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অফিসে জমা দিয়ে এসেছেন। এ ছাড়া যোগদান করতে গিয়ে দলবল নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ানো এবং চাপ প্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।