কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর © সংগৃহীত
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন দেশের বিভিন্ন সরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের বদলির প্রক্রিয়া জোরদার করা হলেও সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে। মাউশির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই শিক্ষকদের তথ্য প্রেরণের নির্দেশ দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হলেও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বদলি নিয়ে অধিদপ্তর এখনো কোনো নোটিশ বা নীতিমালা জারি করেনি। এতে চরম ক্ষোভ ও গভীর হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন দেশের হাজার হাজার কারিগরি শিক্ষক।
শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে আটকে থাকায় তারা চরম পারিবারিক, সামাজিক ও মানসিক অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে দূরদূরান্তে কর্মরত নারী শিক্ষক এবং অসুস্থ শিক্ষকেরা চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছেন।
বৈষম্যের শিকার কারিগরি শিক্ষকেরা
সাধারণ শিক্ষা ধারার স্কুল-কলেজের শিক্ষকেরা যখন নিয়মিত বদলির সুযোগ পাচ্ছেন, তখন কারিগরি শিক্ষকদের ক্ষেত্রে স্থবিরতা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা জানান, মাউশির তৎপরতা মাউশি তাদের আওতাধীন শিক্ষকদের তথ্য চেয়ে ইতিমধ্যেই অধিদপ্তর পর্যায়ে ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু করেছে। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ বা নোটিশ প্রকাশ করেনি। ফলে শিক্ষকেরা বুঝতে পারছেন না তাদের বদলি আদৌ হবে কি না।
শিক্ষকদের ভোগান্তি ও ক্ষোভ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কারিগরি কলেজের শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা কি এ দেশের শিক্ষক নই? মাউশির শিক্ষকেরা বদলির সুযোগ পেলে আমাদের কেন বছরের পর বছর একই জায়গায় পড়ে থাকতে হবে? পরিবারের বয়োবৃদ্ধ মা-বাবা কিংবা সন্তানদের রেখে শত শত কিলোমিটার দূরে চাকরি করা এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিদপ্তরের এই উদাসীনতা আমাদের মানসিকভাবে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে।’
অনেকে জানান, বদলির কোনো সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ নীতিমালা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি সেক্টরে এক ধরনের স্থবিরতা চলছে। অনেকেই তদবির বা বিশেষ উপায়ে বদলি হতে পারলেও সাধারণ ও যোগ্য শিক্ষকেরা কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের আঞ্চলিক পরিদর্শক সুশান্ত কুমার সাহা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস কে জানান, এ বিষয়ে এ মাসের শেষে অথবা আগামী মাসের শুরুতে প্রক্রিয়াগত কার্যক্রম শুরু হতে পারে। তিনি সরকারের সদিচ্ছার প্রশংসা করেন।