বিদেশে উচ্চশিক্ষায় টিউশন ফি ছাড়াও যেসব বিষয়ে হিসাব রাখা জরুরি

১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩১ PM
বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহীরা জেনে নিন টিউশন ফি-র বাইরে আর কী কী বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি

বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহীরা জেনে নিন টিউশন ফি-র বাইরে আর কী কী বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি © সংগৃহীত

বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, আবেদনপত্র, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP), সুপারিশপত্র এবং ভিসা–প্রক্রিয়ার মতো বিষয়গুলোতেই বেশি মনোযোগ দেন। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পর পড়াশোনার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাপনের খরচও সামলাতে হয়। তাই শুরু থেকেই টিউশন ফি, বাসস্থান, খাবার, যাতায়াতসহ অন্যান্য ব্যয়ের পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রায় এসব খরচ কীভাবে পরিকল্পনা ও পরিচালনা করা হবে, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

১. ভিসার আগেই করুন আর্থিক পরিকল্পনা 

বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো শেষ মুহূর্তে বৈদেশিক মুদ্রা ও টিউশন ফি পরিশোধের ব্যবস্থা করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি দেওয়ার নির্ধারিত তারিখের সঙ্গে মুদ্রাবাজারের ওঠানামার কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে ভিসা পাওয়ার পর বা ফি দেওয়ার কয়েক দিন আগে অর্থের ব্যবস্থা করতে গেলে বিনিময় হার প্রতিকূল হলে বাড়তি অর্থ গুনতে হতে পারে।

তাই ভিসা ও ফি পরিশোধের সময়সীমার অনেক আগে থেকেই প্রয়োজনীয় অর্থ, অনুমোদিত ব্যাংকিং চ্যানেল, সম্ভাব্য বিনিময় হার এবং লেনদেনের খরচ সম্পর্কে পরিকল্পনা করা উচিত। তবে বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রযোজ্য নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও বিবেচনায় রাখতে হবে।

আরও পড়ুন: জেনে নিন ইউরোপের সেরা ১০ স্কলারশিপ সম্পর্কে

২. শিক্ষাঋণের সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা নিলেই সাশ্রয় হয় না

অনেক ব্যাংক ও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান শিক্ষাঋণের সঙ্গে বিদেশে অর্থ পাঠানোর সুবিধা দিয়ে থাকে। এতে প্রক্রিয়া সহজ হলেও এটিই সব সময় সবচেয়ে কম খরচের বিকল্প এমন নিশ্চয়তা নেই।

ব্যাংক বা ঋণদাতার বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, সার্ভিস চার্জ, প্রসেসিং ফি ও অতিরিক্ত মার্জিন অন্য সেবাদাতাদের সঙ্গে তুলনা করা জরুরি। বড় অঙ্কের অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে বিনিময় হারে মাত্র ১ শতাংশ পার্থক্যও কয়েক বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অর্থের ব্যবধান তৈরি করতে পারে।

৩. টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার খরচ এক নয়

বিদেশে পড়তে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীর প্রধান দুটি খরচ হলো টিউশন ফি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়। তবে দুটির ধরন আলাদা। টিউশন ফি সাধারণত বড় অঙ্কের এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর দিতে হয়। ফলে অনেক আগেই এর জন্য অর্থের ব্যবস্থা করা যায়। অন্যদিকে বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত, মোবাইল বিলসহ দৈনন্দিন খরচ নিয়মিত হয় এবং এর পরিমাণ সব সময় নির্দিষ্ট থাকে না। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বা অন্যান্য ফি, স্বাস্থ্য বা মেডিকেল ইনস্যুরেন্স, বই ও শিক্ষাসামগ্রী, ভিসা-সংক্রান্ত খরচ এবং যাতায়াতের মতো অতিরিক্ত ব্যয়ও বাজেটে রাখা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: জেনে রাখুন বিশ্বসেরা ২৯ স্কলারশিপের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট

৪. সব অর্থ পাঠানোর মাধ্যম সমান নয়

ব্যাংক ট্রান্সফার, ফরেক্স কার্ড, অনলাইন রেমিট্যান্স সেবা ও শিক্ষাসংক্রান্ত বিশেষ পেমেন্ট সেবা—বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে। প্রতিটির ফি ও বিনিময় হার আলাদা হতে পারে। বড় অঙ্কের টিউশন ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল বা শিক্ষাসংক্রান্ত অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থা সুবিধাজনক হতে পারে। 

দৈনন্দিন খরচে ফরেক্স বা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহারযোগ্য কার্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বেশি নগদ অর্থ সঙ্গে রাখা তুলনামূলকভাবে কম সুবিধাজনক। আর ক্রেডিট কার্ড সহজ হলেও এর সঙ্গে অতিরিক্ত চার্জ ও বিনিময় হারজনিত খরচ থাকতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে শিক্ষার জন্য অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রযোজ্য নিয়ম, অনুমোদিত ব্যাংকিং চ্যানেল এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে আগে থেকে জেনে নেওয়া উচিত।

৫. জরুরি তহবিল রাখাও জরুরি

বিদেশে পড়তে গেলে মাসিক বাজেটের বাইরে একটি জরুরি তহবিল থাকা দরকার। হঠাৎ চিকিৎসা খরচ, বৃত্তি বা পরিবার থেকে অর্থ পাঠাতে দেরি হওয়া, বাসস্থান পরিবর্তন কিংবা জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফেরা প্রয়োজন—যেকোনো পরিস্থিতিতে এই অর্থ কাজে লাগতে পারে।

নির্দিষ্ট মাসিক খরচের বাইরে আলাদা করে রাখা সামান্য অর্থও এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীর ওপর আর্থিক চাপ কমাতে পারে। সম্ভব হলে জরুরি তহবিলটি দৈনন্দিন খরচের অর্থ থেকে আলাদা রাখা ভালো।

আরও পড়ুন: বিদেশে উচ্চশিক্ষা: জেনে নিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুল-ফ্রি ১৬ স্কলারশিপ সম্পর্কে

৬. নতুন মুদ্রায় বাজেট করুন

নিজ দেশের মুদ্রায় হিসাব করার অভ্যাস থেকে বিদেশি মুদ্রায় খরচের হিসাব করা সহজ নয়। নতুন দেশে গিয়ে প্রথম কয়েক মাস অনেক শিক্ষার্থী পণ্যের দাম ও নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে ভুল ধারণা করতে পারেন।

একই সঙ্গে বিনিময় হার ওঠানামা করায় দেশে বসে করা বাজেটও পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বিদেশে যাওয়ার পর স্থানীয় মুদ্রায় আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা এবং নিয়মিত বাজেট পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক মাসের অভিজ্ঞতার পর শিক্ষার্থীরা সাধারণত বুঝতে শুরু করেন, কোন খরচ প্রয়োজনীয়, কোনটি কমানো সম্ভব এবং মাসে বাস্তবে কত অর্থ প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র: ইকোনোমিক টাইমস

গাড়ি থেকে মানিব্যাগ নিয়ে পালাচ্ছিল তরুণ, দৌড়ে আটক করলেন পুল…
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সান্তাহারে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের র…
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল-পিএইচডিতে ভর্তি আবেদন শুরু
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুরের সময় হাতেনাতে পাবিপ্রবির সনাতনী শি…
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পে স্কেলে বাড়ছে বাড়ি ভাড়া ভাতা, কোন গ্রেডে কত?
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আবারও বাড়ছে কমদামি সিগারেটের মূল্য
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9